ক্রন্দসী জীবন

বিশ্বাস করো,

আমি সেদিন অনেক ঝরাপাতার ক্রন্দন নিয়ে ঝরেছিলাম রাতের আঁধারের শাখা প্রশাখার সম্পর্ক ছিন্ন করে;
ছাতিম ফুলের গন্ধটা বুকে নিয়ে আমি সেদিন শীতের আগমনী গানে নিজেকে গুছিয়ে তৈরী হয়েছিলাম– ঝরে যাবার গল্পটা নিয়ে;
অনেক রাতের গুচ্ছ অভিমানে জ্বেলেছিলাম অহংকারের বারুদ।

আর তা হবেই না কেন বলো?
জীবনকে ছেনে ছেনে যে কাঁই তুমি বানিয়েছিলে;
ওখানে জীবনের কংকালে ভূতুরে কান্না বাসা বেঁধেছিল,
আপাদমস্তক কফিনে প্রেতাত্মার অট্টহাসি আর নির্বংশ আমার আমি!
অথচ এই আমাকে আমি গড়েছিলাম অনেক যতনে– তিলে তিলে!
তুমি নির্দ্বিধায় এঁকে দিলে পরাধীনতার তিলক আমার কপালে।
একটা কালো চাঁদ আলোর বৈপিরত্য নিয়ে গেঁথে গেলো অমোঘ শৃঙ্খলে;
বিছিন্ন ব-দ্বীপে আমার তখন নিয়তির আগ্রাসন!

একদিন হঠাৎ জেগে উঠি–
হঠাৎ অসুরের মত আমি!
যাবতীয় অপয়া ধ্বংসে মেতে উঠি,
কতিপয় অনুচ্ছেদ কেটে ফেলি কুঁচি কুঁচি,
নতুন মলাটে বাঁধাই জীবনের পদাবলী!

আমার নিভৃতে এক আমি দৃপ্ত পায়ে হেঁটে চলি– নিজস্ব অহংকারে!
ওখানে তুমি নেই কোথাও,কোনোখানে,
তুমি নামক অস্তিত্বে কেউ নেই!
থাকে শুধু একান্ত অনুগামী এক অহংকার
— আত্মগত এক অনুভূতি!
ঐ রাজ্যে আমি অধিশ্বর!
আমার বলয়ে ঝরাপাতার ক্রন্দনরোল – টুঁটি চেপে ধরি!
ক্রন্দসী জীবনের চোখে এঁকে দেই পাথুরে কাজল;

ঠাঁ ঠাঁ শুষ্কতার মরুভুমি!

অযথাই তুমি সাগর অথবা নদী আনো,
অযথাই কেন যে জলের তুলিতে হেরে যাওয়া জীবনের ছবি আঁকো!
বিশ্বাস না হয়, দেখো এসে–
অহংকারের পাহাড়তলীতে এক আমি মগ্ন জুম চাষে!

-ফারহানা নীলা

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.