এক রহস্যময়ী রাত ও নারীর গল্প (পর্ব-২)

পর্ব-২

লিসার মনে হলো যেন অনন্ত কাল ধরে, গোটা বিশ্বব্রহ্মান্ড জুড়ে ঝড়ের তাণ্ডব চলছে। যেন উন্মাদের চিৎকার তার কান জুড়ে ছড়াচ্ছে, আর অন্ধকারের শক্তিরা তার চারপাশের শূন্যতায় পাক খাচ্ছে আর চিৎকার করছে। অনন্ত সময় কেটে যাওয়ার পর, ধীরে ধীরে সে টের পেল, যে গোলমালটা কমে আসছে। তার কানের ভেতরের গর্জনটা আস্তে আস্তে পাতলা হয়ে এল। অন্ধকারের মধ্যে গোঁত্তা খাওয়া বন্য শক্তিগুলোর তেজ কমে এল। ধীরে ধীরে হুলস্থুলটা শান্ত হয়ে এল। লিসার ঘোর পুরোপুরি কেটে গেল। ফাহিমের কণ্ঠস্বরে এমন কিছু ছিল যে সে ভড়কে গিয়ে চুপ করে রইল।

ফাহিম আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল আর ঠিক তখনই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তুমুল শব্দে আবার বজ্রপাত হল। বাজটি যেন পড়ল ওদের গাড়ির ঠিক উপরেই। বিদ্যুতের তীব্র ঝলকানি আর গগনবিদারী আওয়াজে লিসা ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। সে চকিতে পেছন থেকে সামনের প্যাসেঞ্জার সিটে গিয়ে বসে পড়ল।

লিসা ভয়ার্ত চোখে চারদিকে তাকিয়ে দেখল। অন্ধকারে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না কোথায় আছে? সে অনিশ্চিত কণ্ঠে জানতে চাইল, ‘আমরা এখন কোথায়?’

ফাহিম নেভিগেটর জুম করে দেখল কিন্তু ঠিক বুঝতে পারল না—এখন তারা ঠিক কোথায়। সে বলল, ‘এখন ঠিক কোথায় আছি বলতে পারব না, তবে পঞ্চাশ মাইলের মত এসেছি। আরো ৬৫ মাইল যেতে হবে। এখন এখানে কতক্ষণ বসে থাকতে হবে কে জানে!’ ফাহিমের কণ্ঠে বিরক্ত এবং হতাশা ফুটে উঠল।

‘স্যরি তোমাকে এভাবে জোর করে নিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি। কিন্তু আমি কী করব বলো?’

‘তো কী এমন জরুরি কাজ ছিল যে আজ রাতেই তোমাকে ফিরতে হল?’ লিসা নিশ্চুপ।

‘কথা বলছ না কেন?’ ধমকে উঠে জিজ্ঞেস করল ফাহিম।

লিসা ফুপিয়ে কেঁদে ফেলল। এবং কাঁদতেই থাকল।

‘কাঁদছ কেন? কান্নার কী হল?’

মেয়েটির কান্না বেড়ে গেল আরো।

‘কী মুস্কিল—হোয়াই ইউ আর ক্রায়িং?’

কোনো উত্তর নেই।

‘হ্যোয়ার ইজ ইয়োর বয়ফ্রেন্ড?’

‘আই ডোন্ট নো।’

‘টেল মি হোয়াট হ্যাপেন্ড?’

‘হি লেফট মি। আর একটা মেয়ের সাথে চলে গেছে।’

‘কোথায় চলে গেছে?’

‘আই ডোন্ট নো।’

ফাহিম হতাশ হয়ে তাকিয়ে রইল সামনে।

‘আমি, ব্র্যাডলি আর ষ্টেসি—সাথে আরো কয়েকজন ফ্রেন্ড একসাথে বসেছিলাম।’

‘ব্র্যাডলি আর ষ্টেসি?’

‘ব্র্যাড আমার বয়ফ্রেন্ড। ষ্টেসি হচ্ছে সেই মেয়েটি, যার সঙ্গে ব্র্যাড ভেগেছে।’

‘ভেগেছে মানে কী? কীভাবে, কোথায় গেছে?’

‘একবার তো বলেছি—আই ডোন্ট নো।’

ফাহিম আর কিছু না বলে চুপ করে রইল। বাইরে বৃষ্টি ঝড়ছে অবিরাম—বৃষ্টি থামা তো দূরের কথা, কমারও কোনো লক্ষণ নেই। ফাহিমের নিজের বোকামির জন্য, নিজের উপর প্রচন্ড রকমের বিরক্ত হতে থাকল।

‘আমরা তিনজন একই টেবিলে বসে ড্রিংক করছিলাম। হঠাৎ ব্র্যাড আর ষ্টেসি স্মোক করার জন্য বাইরে চলে যায়। আমি স্মোক করি না, তাই আমি যাই নি ওদের সাথে।’ এটুকু বলে চুপ করে রইল লিসা।

ফাহিম ঘুরে তাকাল লিসার দিকে—প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে।

‘ওরা আর ফিরে আসে নি। দশ মিনিট পরে আমি বাইরে স্মোকিং জোনে গেলাম—দেখলাম ওরা কেউ নেই। সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করলাম, ফোন ধরল না। টেক্সটেরও রিপ্লাই দিল না। আমি প্রায় দুই ঘন্টা অপেক্ষা করলাম, কিন্তু ওরা আর ফিরে এল না।’

ফাহিম যা বোঝার বুঝে নিল। তার মাথায় এখন একটাই চিন্তা, কী করে মেয়েটিকে দ্রুত পৌছে দিয়ে ফিরে যাবে তার অ্যাপার্টমেন্টে। তার নিজেরও অনেক ক্লান্ত লাগছে। মাথাটা টনটন করছে—মাইগ্রেণের লক্ষণ। সে ঘড়ি দেখল, রাত ১টা বেজে ১৫ মিনিট। আরো প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রাইভ করতে হবে গন্তব্য পৌছতে। তার মানে ফিরতে ফিরতে ভোর ৫টা বেজে যাবে। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি, বাতাসের গতি কোনোটাই কমছে না। সে গাড়ির সিট পেছনে হেলিয়ে তার শরীরটা এলিয়ে দিল।

আবার নীরবতা নেমে এল দুই অপেক্ষমানের চারিদিকের অন্ধকারে।

‘তুমি কি কখনো প্রেম করেছ?’ দীর্ঘ বিরতি দিয়ে লিসা প্রশ্ন ছুড়ে দিল।

ফাহিমের নীরব ভাবনায় ছেদ পড়ল লিসার এমন প্রশ্নে। সে মাথা ঘুরিয়ে একবার দেখল লিসাকে—সিটের ওপর দু’পা তুলে দিয়ে দু’হাত ভাঁজ করে জবুথবু বসে রয়েছে মেয়েটি। দুটি আয়ত চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। ফাহিম বলল, ‘কেন বলত?’

‘এমনিই—জানতে ইচ্ছে করল। তাছাড়া এভাবে কতক্ষণ চুপ করে থাকব। গত এক ঘণ্টায় তুমি আমার সঙ্গে একটি কথাও বলনি।’

‘তুমি ঘুমাচ্ছিলে, তাই ডিস্টার্ব করি নি।’

‘ডাকলেই পারতে।’

‘নিয়ম নেই।’

‘কীসের নিয়ম নেই।’

‘ঘুমন্ত প্যাসেঞ্জারকে ডেকে তোলার। গন্তব্যে পৌছে গেলে অবশ্য ভিন্ন কথা।’

‘আমি তো চোখ বন্ধ করে ছিলাম শুধু।’

‘হা হা হা, তাই?’ ফাহিম হেসে দিয়ে বলল, ‘তাহলে তুমি বললে না কেন? তোমাদের বয়সী মেয়েরা তো সারাক্ষণ কথা বলে।’

‘আমার কি কথা বলার মত মেন্টাল সিচুয়েশন ছিল?’

‘তা অবশ্য একটা কথা।’ একটু চুপ করে থেকে ফাহিম আবার বলল, ‘এখন মন ভাল হয়েছে?’

‘ভাল হয় নি।’

‘তাহলে?’

‘চুপ করে থাকলে মন আরো খারাপ হচ্ছে। আজ সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে যা ঘটে গেছে—সে কথা আমি মনে করতে চাচ্ছি না।’

‘মনে না করাই ভাল।’

‘আচ্ছা সব ছেলেরাই কি এমন?’

‘কেমন?’

‘সুযোগ পেলেই প্রেমিকার হাত ছেড়ে অন্য একটা মেয়ের সাথে পালিয়ে যায়?’

ফাহিম এ কথার কোনো উত্তর দিল না।

‘আমার তো মনে হয় পৃথিবীর সব ছেলেরাই খারাপ।’

‘এভাবে বলাটা বোধ হয় ঠিক নয়।’ ফাহিম ঘুরে তাকাল মেয়েটির দিকে। কিছুটা রুঢ় কণ্ঠে বলল, ‘দোষটা কি ছেলেদের একার? আজ তোমার বয়ফ্রেন্ড তোমাকে ছেড়ে চলে না গেলে, এ কথা কি তুমি বলতে? তাছাড়া, সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে যাচাই করে নিতে তুমি ভুল করেছ। দায় তো তোমারও আছে, নেই?’

লিসা চুপ করে রইল।

‘আমি কি একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি?’ ফাহিম কৌতুহূলি দৃষ্টিতে তাকাল।

‘পারো। অবশ্য আমি জানি প্রশ্নটা কী?’

‘তাহলে উত্তরটা দাও।’ একটু অবাক হয়ে ফাহিম বলল।

‘ইয়েস, উই হ্যাড সেক্স। হি টুক অ্যাওয়ে মাই ভার্জিনিটি।’

‘হা হা হা। হি টুক অ্যাওয়ে ইয়োর ভার্জিনিটি! রিয়েলি?’

‘হাসির কী হল? আমি কি ভুল কিছু বললাম?’

‘অবশ্যই ভুল বলছ। তুমি ছেলেটাকে একা দোষ দিচ্ছ কেন? তোমার দায় নেই? সে কি তোমাকে রেপ করেছে? তোমার প্রশ্রয় ছিল না?’

‘তুমি রেগে যাচ্ছ কেন?’

‘রেগে যাচ্ছি—বোকার মত কথা বলছ, তাই। তাছাড়া এটা আমার প্রশ্ন ছিল না। তোমার জীবনে আর কোনো ব্যক্তিগত কথা নেই?’

এবার মেয়েটি লজ্জা পেল, নিজের বোকামির জন্য। আগ বাড়িয়ে কেন যে এত কথা বলতে গেল। সে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।

অস্বস্তিকর একটা নীরবতা নেমে এল আবার। কিছু সময় পার করে, ফাহিম হাত বাড়িয়ে প্যাসেঞ্জার সীটের পাশ থেকে ব্রাউন ব্যাগের ভেতর থেকে কয়েকটি গ্রানোলা স্ন্যাক-বার আর পানির বোতল বের করল। লিসার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘নাও। ক্ষিধে পেলে খেতে পারো।’

‘ক্ষিধে নেই।’

‘তোমার কি ধারণা আমি ধূতুরার বিষ মিশিয়ে দিয়েছি এটাতে?’

‘হোয়াট?’ কিছু না বুঝে প্রশ্ন নিয়ে তাকাল লিসা।

ফাহিম দ্বিতীয়বার না সেধে নিজে একটি স্ন্যাক-বার খুলে খাওয়া শুরু করল। মচমচে স্ন্যাক-বার খাওয়ার শব্দে লিসা আবার তাকাল ফাহিমের দিকে। ফাহিম মৃদু হেসে একটি বার এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘দেখলেই তো এটাতে কোনো কিছু মেশানো নেই। খেতে পারো। তাছাড়া আমি মানুষ খারাপ না। তোমার কোনো ক্ষতি যে আমি করব না, তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝতে পেরেছ।’

কথা না বলে ফাহিমের বাড়ানো স্ন্যাকটি আলত করে হাতে নিয়ে চুপ করে বসে রইল লিসা।

আবার অপেক্ষা। ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুতের ঝলকানি, বাতাসের ঝাপ্টা আর বড় বড় ফোটার অবিরাম বৃষ্টি মিলে মিশে এক অদ্ভূদ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে অপেক্ষমান একজোড়া মানব-মানবী।

রিয়ার ভিউ মিররে বহু দূর থেকে ভেসে একটা আলোর বিন্দু হঠাৎ করেই দেখতে পেল ফাহিম। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে রইল। আলোক বিন্দু ধীরে ধীরে বড় হয়ে এক সময় বেশ বড় হয়ে গেল এবং আরো বড় হতেই ফাহিম বুঝতে পারল একটা গাড়ি মাত্রই তাদেরকে পাশ কাঁটিয়ে চলে গেল। পিছে পিছে আরো একটি গাড়ি চলে যেতেই ফাহিম ভাল করে পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারল, ঝড়ের তাণ্ডব বেশ কমে এসেছে। জানালার কাঁচ কিছুটা নামিয়ে দেখল, বৃষ্টিও আগের চেয়ে কম। সে খুশি খুশি চেহারা নিয়ে তাকাল লিসার দিকে—দেখল চুপচাপ ফোনে টেক্সট মেসেজ পড়ছে সে। ফাহিম বলল, ‘চল, সেকেন্ড ইনিংস শুরু করা যাক।’

লিসা অবাক হয়ে তাকাল।

‘দেখ নাই, দুটো গাড়ি আমাদের পাশ কাঁটিয়ে চলে গেল? ঐ দেখ…’ ফাহিম সামনের দিকে তর্জনী তাক করে দেখাল। এখনও একটা গাড়ির পেছনের লাল আলো দেখা যাচ্ছে—অল্প কিন্তু যথেষ্ট পরিস্কার।

‘আর কতক্ষণ লাগতে পারে পৌছতে?’

‘সেটা তো এখনই বলা যাবে না। সামনের ওয়েদার কেমন কে জানে? তবে নেভিগেটরের সময় অনুযায়ী আমরা আরো ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌছে যাব।’

‘আমাকে বাথরুমে যেতে হবে।’ লিসা কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলল।

‘বাথরুমে কেন?’

‘বোকার মত প্রশ্ন তুমিও কর, দেখলে? বাথরুমে কেন যায় মানুষ?’

‘আচ্ছা, দেখি সামনের কোনো গ্যাস স্টেশন পেলেই এক্সিট নিয়ে নিব।’

‘অতক্ষণ তো দেরি করতে পারব না।’

ফাহিমের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠল। কিন্তু সে কিছু বলার আগেই, অবাক বিষ্ময়ে লক্ষ করল লিসা গাড়ির দরজা সামান্য খুলে কেমন কায়দা করে বসে দিব্যি তার প্রাকৃতিক কাজটি সেরে নিচ্ছে। এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সে নিজেকে পরিপাটি করে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘গাড়ি স্টার্ট দাও।’

ফাহিম রাগ করতে যেয়েও রাগ করল না। সে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতেই বলল, ‘আই ক্যান্ট বিলিভ, ইউ রিয়েলি ডিড দ্যাট।’

‘হোয়াট?’ কাঁধ দুলিয়ে দুষ্টুমির হাসি হেসে লিসা বলল, ‘কোনো মেয়েকে পী করতে দেখনি কোনোদিন?’

ফাহিম অবিশ্বাস্যদৃষ্টিতে মাথা ঝাকিয়ে গাড়ি সার্ট দিয়ে বসে রইল কিছুক্ষণ। সামনের কাঁচ ডিফ্রষ্ট হতেই উইন্ডশীল্ড উইপার চালু করে দিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি নিয়ে উঠে পড়ল হাইওয়েতে।

ফাহিমকে খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। বাতাসের বেগ আর বৃষ্টির তেজ কিছুটা কমে এলেও, নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এক দীর্ঘ নীরবতা পার করে লিসা হঠাৎ ঘুরে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তরটা দাও নি।’

‘কী প্রশ্ন?’ ফাহিম খানিকটা অবাক হয়ে জনতে চাইল।

‘তুমি কি কখনো প্রেম করেছ?’

‘হ্যাঁ করেছি।’

‘তোমার কাছে ভালোবাসার সংজ্ঞা কী?’

ফাহিম তাকাল লিসার দিকে। লিসা উত্তরের অপেক্ষায়।

‘ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যার কোন সংজ্ঞা হয় না। এটি শুধু মাত্র অনুভূতির মাধ্যমে বুঝতে হয়। অন্য কোন উপায়ে প্রেম বা ভালোবাসা বোঝা অসম্ভব। কারণ এটার অর্থ পরমভাব। আর যা কিছু সংজ্ঞার মাধ্যমে উত্তর দেওয়া সম্ভব, তা পরম হতে পারেনা।’

লিসার চোখে মুখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল। সে আর কিছু বলতে পারল না।

‘তো ভালোবাসা বলতে তুমি কি বোঝ—তোমার সংজ্ঞাটি কি শুনি?’ এবার ফাহিম জানতে চাইল।

একটু চুপ করে থেকে লিসা বলল, ‘এক সময় আমারো মনে হত, ভালোবাসা হচ্ছে অনুভূতির একটা ব্যাপার। এটি ব্যাখ্যার কোনো বিষয় না—অনুভব করার বিষয়। তবে এখন মনে হচ্ছে…’ থেমে গেল লিসা।

‘কী?’

‘নাহ—কিছু না।’ ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে চুপ করে রইল লিসা।

(২য় পর্বের সমাপ্তি)

ফরহাদ হোসেন

এক রহস্যময়ী রাত ও নারীর গল্প (প্রথম পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published.