উত্তরাধিকার (৭ম পর্ব)

বদুকে নিয়ে জোবায়ের পুনরায় রিয়ার রুমে ঢুকে স্যালুট ঠোকে।

– স্যার, বদুকে নিয়ে এসেছি।
পুলিশের পোশাকে রিয়াকে অন্যরকম লাগছে। ডাকসাইটে সুন্দরী রিয়া। জোবায়েরকে বিদায় করে ইশারায়। এবার বদুর দিকে তাকায় সে। একেবারে সাধারণ টাইপের লোক বদু। চেহারায় কিছুটা চোর চোর ভাব আছে। সারাক্ষণ কিছু লুকানোর ভান করছে সে। এসি রুমে ঢুকে এমন সুন্দরী মহিলা পুলিশের মুখোমুখি কখনো হয় নি সে। তার চোখে মহিলা মানেই লোলুপ বস্তু। তাই সরাসরি তাকানোর সাহস পাচ্ছে না। তাকে তুলে নিয়ে আসা লোকটি এ মহিলাকে বারবার স্যার বলতে দেখে তার মাথা ঠিক নেই। এডিশনাল এসপি রিয়া বদুকে বলে,
– তুমি কেমন আছ বদু?
এমন মোলায়েম কথা শুনে বদুর মনে কিছুটা সাহস ফিরে আসে। অনেকক্ষণ পর সাহস করে মুখ খোলে,
– স্যার, আমি কুনো অন্যায় করি নাইক্কা। হুদাহুদি আমারে ধইরা আনছে।

নুরা বাড়ি থেকে জমির দলিল নিয়ে বদুর বাড়ির কাছে এসে ডেকেও তার সাড়া পায় না। কিছুক্ষণ পর বদুর স্ত্রী বের হয়ে আসে। নুরাকে দেখে বলে,
– হেয় ত বাইত আসে নাই।
নুরা বিস্ময়ে পাথর হয়ে যায়। বদুর এতো সাহস, তার সাথে মিথ্যে বলে। অনেক কষ্টে মেজাজ ঠান্ডা রেখে বলে,
– আমারে কইল, বাইত যাই।
বলেই মনে মনে বদুর চৌদ্দগুষ্টির জাত মারে বকতে বকতে হাঁটতে থাকে বাজারের দিকে। মনে মনে বলে,
– কুত্তার বাচ্চা, তর চা খাওয়নের খাইশ জন্মের মতন মিঠামু।
নুরার দৃঢ় বিশ্বাস বদু চায়ের দোকানে বসে ফাও চা খাচ্ছে আর মামদোবাজি করছে।

বদুর কথা শুনে রিয়া খিল খিল হাসিতে ভেঙ্গে পড়ে। তার হাসি শুনে বদু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সে কখনো কোন পুলিশকে এমন প্রাণখোলা হাসতে দেখেনি। সে কেবল পুলিশের গালি শুনেছে। রিয়া বলে,
– আমি জানি, তুমি কোন অপরাধ কর নি। তুমি বস।
সে এগিয়ে এসে থপ করে বসে পড়ে কুশন চেয়ারে।
– তোমাকে আমি কিছু প্রশ্ন করব। ঠিক ঠিক উত্তর দেবে।
– জ্বী, স্যার বলেন।
– নুরা সম্পর্কে আমাকে বল।
বদু তুফানের গতিতে শুরু করে নুরার কাহিনী। রিয়া তাকে মাঝপথে থামায়। সে বুঝতে পারে এভাবে হবে না। একটি একটি করে প্রশ্ন করে বদুকে। কিছু জমি সম্পর্কে জানতে চায় সে। বদু তাকে সব কিছু জানায়। বাড়ির আশে পাশের জমি নুরা নিজের নামে নামজারি করে নিয়েছে।
– তুমি মাহফুজ সাহেবকে চেন?
– কোন মাহফুজ স্যার?
এবার রিয়ার চোখ দিয়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হয়। বদু ভয়ে কাঁপতে থাকে।
– স্যার, চিনি। আমগো গেরামে একজন মাহফুজ আছিল অনেক আগে।
– মাহফুজ সাহেব বল, কুত্তার বাচ্চা।
রিয়ার ধমক খেয়ে বদুর আত্মা খাঁচাছাড়া অবস্থা। ভেউ ভেউ করে কান্না করে উঠে বাচ্চা ছেলের মতো।

বদুর কান্না দেখে রিয়ার মায়া হয়। সে জানে বদু একজন খুব বাজে মানুষ। রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে তার কান্না থেমে আসে। বলে,
– স্যার, আম্নে যা কন আমি হেইডাই করমু।
– এবার বলো, মাহফুজ সাহেবকে চিনতে পেরেছ?
– জ্বী, স্যার।
– তার কোন কোন জমি নুরা নিজের নামে নামজারি করেছে তার তালিকা তুমি আমাকে দেবে। ঠিক আছে।
– জ্বী স্যার, আমি জানাব।
– কবে জানাবে বল।
– স্যার, আম্নে যেদিন কইবেন হেদিনই জানামু।
– তুমি আগামী সপ্তাহে আমাকে জানাবে।
– জ্বী স্যার।
রিয়া জোবায়েরকে ডেকে সবকিছু বুঝিয়ে দেয়। বদুকে ঈদের জন্য ৫০০০ টাকা দিয়ে দেবার জন্য বলে দেয়।

রিয়ার রুম থেকে বের হবার পর জোবায়ের বদুর হাতে ৫০০০ টাকা দেয়। টাকা পেয়ে সে হতভম্ব হয়ে পড়ে। সে ভাবতেই পারে নি পুলিশ হেড কোয়ার্টারে এসে মুক্তি পেয়ে চলে যাবে। তার উপর টাকা পেয়ে সে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। সে জোবায়েরকে বলে,
– স্যার, আমারে টেহা দিলেন কেরে?
– তোমার আজকের দিনটি নষ্ট করেছি। তার উপর আমার ম্যাডামের মনে খুব দরদ। তাই ঈদের জন্য তোমাকে ৫০০০ টাকা দিয়েছে। তুমি ম্যাডামের কথা মতো কাজ করো। তোমার মঙ্গল হবে।
জোবায়ের একটা সিএনজি করে দেয় বদুকে। সে চলে আসে তার বাড়িতে।

চলবে——–

-বাউল সাজু

Leave a Reply

Your email address will not be published.