শিক্ষিত পতিতা (২য় পর্ব)

রাতের অন্ধকারে পুরুষের স্বাদ মেটানো আর সকাল থেকে সন্ধ্যা পড়ালেখা- এভাবেই চলছিলো আমার দিনকাল। কোনকিছু নিয়ে হই-হুল্লোড় না করায়, পড়ালেখার বিষয়ে রহিম আমাকে কোন বাঁধা দেয়নি। তবে, আমাকে দেখে হিংসে হতো ওর বড় বউয়ের। ওর কাছে নানা কুকথা বলতো আমার নামে। রেগে যখন রহিম তেঁড়ে আসতো আমাকে মারতে, ঠিক তখন আমি বলতাম, পতিতার আবার সম্মান কিসের। আর ঠিক এ কথায় টনিকের মতো কাজ হয়ে যেতো।

সেই নবম শ্রেণী থেকে পড়ালেখা শুরু করলাম আবার। এই জীবনটাকে এতটাই ঘৃণা করতাম যে মনে প্রাণে আঁকড়ে ধরেছিলাম পড়ালেখার মাধ্যমে বড় হতে হবে। তারপর, একে একে স্কুল, কলেজের গন্ডি পার হলাম। এর মধ্যে রহিমের লোভ বাড়তে লাগলো। সে আমাকে সম্ভবত আর পড়তে দিতে চাচ্ছিলোনা। তাই, দিনেও সে খদ্দের পাঠানো শুরু করলো।

দিন ও রাতের ধকল শেষে আমার সামর্থ্য থাকতোনা পড়ালেখা করার। এর মধ্যে আবার ৩ কি ৪ দিন পর আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা। তাই, বাধ্য হয়ে রহিমের ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম। প্রতিদিনের জমানো ১০-২০ টাকা চার বছর পর ২০ হাজার টাকায় পরিণত হলো। অনেক কষ্টে লুকিয়ে রেখেছিলাম টাকাগুলি। সেই টাকা দিয়ে লুকিয়ে কিনেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম। প্রয়োজনীয় সব বই খাতা নিয়ে চলে এলাম আমার কলেজের বান্ধবী রুনুর কাছে। রুনু আমার অবস্থা জেনেও থাকতে দিলো। তিনদিন পর একসাথে পরীক্ষা দিতে গেলাম। পরীক্ষা শেষে জমানো টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে উঠে গেলাম রুনুর পরিচিত বান্ধবীদের মেসে।

সুনয়নার কথা শুনে আমি থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, রহিম আপনার খোঁজ নেয়নি।

একটু দম নিয়ে তিনি বললেন,
ওর ঘর থেকে কিছু চুরি করে আনিনি বলে বোধহয় ও আমার খোঁজ নেয়নি। অথবা, একজন গেলে আরেকজন আসবে- এই ভেবে হয়তো খোঁজ নেয়নি। কোন কারণই আমি স্পষ্ট জানিনা।

আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একটি সিগারেট ধরালেন সুনয়না।

আমি কৌতুহল উগড়ে দিয়ে বললাম, বাকীটুকু তাড়াতাড়ি বলুন। আমি আর অপেক্ষা করতে পারছিনা।

আমার দিকে তাকিয়ে সিগারেটে লম্বা একটি টান দিলেন সুনয়না। তারপর বললেন,

পাঁচ হাজার টাকা করে যদি প্রতিমাসে খরচ হয়, আর আমি যদি কোন কাজ না করি; তাহলে তিন-চার মাসে আমার সবকিছু গুছিয়ে আবার রাস্তায় নামতে হবে। তাই, আমার কাজের খুব দরকার।
এর মধ্যে পতিতাবৃত্তিতে নামার আর ইচ্ছে ছিলোনা। যা একবার ছেড়ে এসেছি তাতে আবার ফিরে যাবো কেনো? আর ওটাই করি তাহলে এতদূর আসলাম কেনো?

তাই, অন্যদিকে চেষ্টা করছিলাম। স্কুল-কলেজের ফলাফল ভালো হওয়ায় শিক্ষকদের পরিচিত ছিলাম। ফলে, স্কুল-কলেজে একবার দু’বার দেখা দিতেই টিউশন পেয়ে গেলাম। শুরুর দিকে পেলাম ২ টা টিউশন। সব মিলিয়ে পাই ৬ হাজার টাকা। এ দিয়ে আর কি হয়। মাথা গোঁজার ঠাঁইটা শুধু পোক্ত হলো।

এর মধ্যে ঢাবির ফলাফল বের হলো। বিশ্বাস করবে কি না জানিনা, রূপকথার মতোই অনেকটা ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। তারপর, আর কি! জমানো সব টাকা খরচ করে ভর্তি হয়ে গেলাম। এর মধ্যে ঢাবির ছাত্রী হওয়ার সুবাদে টিউশন আসতে লাগলো প্রচুর। সব মিলিয়ে ঠিক করলাম চারটের বেশি টিউশন করাবোনা। আগের সব টিউশন ছেড়ে বেছে বেছে চারটে টিউশন নিলাম। চারটে থেকে সবমিলিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা পেতাম। ক্লাস শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে রোকেয়া হলে সিট পেয়ে গেলাম। খরচও অনেকটা কমে গেলো।

আস্তে আস্তে জীবন বদলে যেতে লাগলো। কিন্তু, আবার একটি ধাক্কা খেলাম।

আমি অবাক হয়ে বললাম, আবার?

তিনি হেসে বললেন, হ্যাঁ, আবার।

হলে উঠার পর একদিন আমাকে বড় আপুরা ডেকে পাঠালেন। মানসিকভাবে যৌন অত্যাচার করলেন। পাশাপাশি, বড় ভাইয়াকে গিয়ে বলতে বললেন আমার অন্তর্বাসের মাপ!
বাধ্য হয়ে করতে হলো। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এসে আমাকে এভাবে নিগৃহীত হতে হবে তা ভাবতে পারিনি। সারারাত আমি কেঁদেছিলাম।

বিষয়টার নিষ্পত্তি হয়তো একদিনে হয়ে গেছে কিন্তু তার রেশ মনের মধ্যে অনেকদিন রয়ে গিয়েছিলো। তারমধ্যে একদিন রহিমের সাথে দেখা হলো টিএসসিতে।
সম্ভবত, যে অতীতকে ফেলে আসছিলাম তা আমাকে ছেড়ে দেয়নি এতো সহজে। আর তা যদি না’ই হয় তাহলে, কেনই বা রহিম রিক্সায় সেদিন আমার’ই বিভাগের বড় বোনকে নিয়ে আসবে আর কেনই বা সে তাকে আমার কথা বলবে। তারপর, আর যা হয়। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো আমার অতীতের পরিচয়। ক্যাম্পাসে, হলে কোথাও আর কথা শুনতে বাকী নেই আমার। আমার রুমমেট রুম পরিবর্তন করলো, কেউ আমার সাথে থাকতে চায়না, ক্লাসে কেউ আমার সাথে বসতে চায়না, যা ইচ্ছে তাই বলে চলে যায়।

কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়ে বিপাকে পড়লো। এবং আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলো।

মানসিকভাবে ভেঙে পরেছিলাম প্রচুর। আমার সব চেষ্টা বিফল হয়ে যাবে মানতেই পারছিলাম না।

এবং, জীবনের আবার পরিবর্তন।

এটুকু বলে নীরব হয়ে গেলেন সুনয়না। সূর্যের গাঢ় লাল আভা ছড়িয়ে পরেছে পশ্চিম থেকে পূর্বে। দেখে মনে হচ্ছে যেন পরাজয়ের আগে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে লড়ে যাচ্ছে এমন। সেদিকে এক মনে তাকিয়ে আছেন সুনয়না।

তার সেই দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছিলো সূর্যের সাথে তিনি তার নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। আর ঠিক তখনই মনে প্রশ্ন জাগলো, কেউ জীবনযুদ্ধে ধুঁকে ধুঁকে লড়ে যায়। অথচ, আমাদেরই কেউ কেউ বিনা প্রয়োজনে তার লড়াইটাকে আরো জটিল করে দেয়?

মানুষ এই সমাজব্যবস্থা মানুষের উপকারের জন্য তৈরি করেছিলো। কিন্তু, এই সমাজব্যবস্থাই মানবজীবনকে কঠিন করে তোলে।
তবে, কেনো এই সমাজব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখছে মানুষ? সবার উন্নতির জন্য, নাকি নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে সুবিধে দেওয়ার জন্য?

জানি, প্রশ্নগুলো করলে আলোচনা অন্য দিকে চলে যাবে। তাই, একটি সিগারেট ধরিয়ে আমি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলাম সুনয়নার দিকে। আর ভাবছিলাম, এবার না জানি কি পরিবর্তনের কথা শোনাবে সুনয়না।


কোন পতিতা যদি পতিতাবৃত্তি ছেড়ে অন্য কোন পেশায় নিযুক্ত হতে চায়, তবে সমাজ তাকে মেনে নেয়না কেনো?
পতিতাবৃত্তিকে প্রায় সবাই ঘৃণা করে, এমনকি যে প্রতিদিন পতিতালয়ে যায় সে’ও কোনকিছুতে বিরাগভজন হলে পতিতা বলে সম্বোধন করতে বাদ দেয়না। তাহলে, কোন পতিতা যখন এই পতিতাবৃত্তিটাকে ছেড়ে অন্য কোন পেশায় আগমন করে, তখন তাকে বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা হয় কেনো? প্রতি পদক্ষেপে নিত্যনতুন সমস্যার সম্মুখীন করে বারবার তাকে আগের পেশায় ফিরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করে কেন?
পশ্চিমের সূর্য শূন্য রক্তিম বর্ণ ধারণ করা আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নগুলো আমার দিকে ছুড়ে দেন সুনয়না।

আমি খানিকটা অপরাধীর মতো মুখ করে উত্তর দিলাম, মানুষ পতিতাবৃত্তিকে ঘৃণা করে, পতিতাকেও করে; কিন্তু, পতিতাদের তাদের প্রয়োজন। বিশেষ করে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর উপর আধিপত্য বিস্তার করে, নানা রকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে একগামী থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে, কিছু মেয়ে তার বহুগামী মানসিকতাকে আটকে রাখতে না পেরে কয়েক পুরুষে বিচরণ করেছে। কিন্তু, তারও একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে। কিন্তু, পুরুষের বহুগামী মানসিকতার বিরুদ্ধে উচ্চবাক্য করার তেমন কেউ নেই। আর, বহুগামী মানসিকতার পরিপূর্ণতার জন্য নারীর প্রয়োজন। কিন্তু, নারীর বহুগামীতাকে বলয়ের ভেতরে আটকে ফেলায় নিজের ইচ্ছাকে চারিতার্থ করা সম্ভব হয়না। আর তাই, অর্থকষ্টে পড়ে আসা নারীদেরকে অর্থের বিনিময়ে শরীর দিতে বাধ্য করা হয়। এখন তারাও যদি অর্থকষ্ট দূর করে পূর্বের জীবনে ফিরে যায়, তাহলে শরীরের প্রয়োজন মেটাবে কে? তাই, সে যেন ফিরতে না পারে, সেজন্য সমাজ প্রতিটি পদে পদে বাঁধা তৈরি করে রেখেছে। এজন্যই একজন পতিতা শিক্ষিত হয়ে স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসার ঘটনা বিরল। পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে অর্থাৎ উন্নত দেশে ফিরে আসার অনেক উদাহারণ দেখানো যায়। কিন্তু তার পেছনে যেসব কারণ আছে তা বলা শুরু করলে কথোপকথন অন্য কোন আলোচনায় চলে যাবে। তাই, আজ এ আলোচনা থাক। শুধু, শেষে সমাপ্তি টানবো এই বলে, পশ্চিমে উদাহারণ থাকলেও, পূর্বে তা বিরল। কেননা, পশ্চিম সবসময় বর্ণিল। আর কে না জানে বিনাশের আগে উজ্জ্বলতা অন্য সবার থেকে বেশি’ই হয়।

যাই হোক, অনেক কথা হলো। এবার আপনার জীবনগাঁথায় ফিরে আসুন।

সুনয়না এবার একটু শব্দ করে হাসলেন। তারপর বললেন,
ঢাবি থেকে সম্ভবত আমি বহিষ্কার হয়ে যেতাম। কিন্তু সে সময় বাংলা বিভাগের সভাপতি আমার হয়ে একাই লড়ে যান। তার কারণে আমি বহিষ্কার হওয়া থেকে বেঁচে যাই। তবে, আমাকে হল ছেড়ে বের হয়ে যেতে হয়। হল ছেড়ে যাবার দিন আমি স্যারের সাথে দেখা করি। তিনি আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, মা এই পঁচা গলা সমাজে বেঁচে থাকা বড় দায়। তুই এই পঁচা গলা সমাজের বিরুদ্ধে একাই লড়ে যাচ্ছিস। কখনো হার মানিস না। এগিয়ে যা। এই পচা গলা সমাজকে তোর দরকার পরবেনা, কিন্তু, এই সমাজের তোকে দরকার পড়বে- সেভাবে নিজেকে গড়ে তোল।

স্যারের কথার মাঝে আলাদা একটা মায়া ছিলো। পরম মমত্ববোধ আমাকে ঘিরে ধরে। এবং সম্ভবত সেদিনই আমার মনোবল আরো দৃঢ় হয়।

কিন্তু, আমার বাসস্থানের কোন ব্যবস্থা হয়নি। আমি কই থাকবো কিচ্ছু জানিনা। ঠিক তখনই আমার বিভাগের এক ছোটবোন আমাকে তার বাসায় কিছুদিনের জন্য থাকতে দেয়।

আমি ফোঁড়ন না কেটে পারলাম না। জিজ্ঞেস করলাম, সে কেন থাকতে দিলো?

সুনয়না বললেন, সমাজে কিছু ব্যতিক্রম মানুষ আছে বলেই সমাজটা টিকে আছে, এখনো ভেঙে পড়েনি।

এটুকু বলে চুপ করলেন। তারপর, আমার নীরবতা দেখে আবার বললেন,
সে কেন থাকতে দিয়েছিলো তা আমি জানিনা। পরে সে বলেছিলো, আমাকে সে অনেক পছন্দ করতো। তাই সে থাকতে দিয়েছে।
আর, আমার অবস্থা তখন এতটাই করুন যে কোনকিছু ভাবার অবকাশ ছিলোনা।
ওর বাসায় একসপ্তাহ ছিলাম। তারপর, নতুন মেসে উঠে গেলাম। নতুন মেসের কেউ আমার অতীত জানতোনা। কিন্তু, ক্যাম্পাসের সবাই জানতো।
এর মধ্যে, ক্যাম্পাসের বামধারার রাজনৈতিক দল আসলো আমার সিট কেন বাতিল হয়েছে তা নিয়ে আন্দোলন করতে। বললো, আমার জন্য তারা লড়বে। অথচ, আমার যখন বাসস্থানের প্রয়োজন তখন একটা কেউ টু’শব্দ করেনি। যখন ঠিকানা হলো তখন এসেছে। এটা নিয়ে এখন আন্দোলন করলে কাজের কাজ তো কিছু হবেনা, বরং আমার থাকার অসুবিধে হবে।
আমি তাদের মানা করে দিলাম।
তখন ওরা আমাকে বললো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত।
আমি ওদের কথা শুনে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে চলে আসছিলাম।
আর ঠিক তখনই পেছন থেকে শুনতে পেলাম, দু’টাকার বেশ্যা, তার আবার কি ভাব।
চুপচাপ হেঁটে চলে আসলাম।

এতকিছুর পরও আমার পড়ালেখা থেমে থাকেনি। বরং, আমার জেদ আরো বেড়ে গিয়েছিলো।
সবই ঠিকঠাক চলছিলো। তারপর, একদিন টিউশন শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। রাত হবে তখন ১০ টা। আচমকা দুই ছেলে আমাকে হেঁচকা টানে অন্ধকার এক গলিতে ঢুকিয়ে ফেলে। তারপর, কি হয়েছিলো আমি জানিনা।
আমার জ্ঞান যখন ফিরলো তখন দেখলাম লোকেরা আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে। অথচ, অধিকাংশ মানুষের ভেতরে কেমন যেন এক লোলুভ দৃষ্টি। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমার শরীরের কাপড় প্রায় ছিন্নভিন্ন। এর মধ্যে সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফ্লাশ।

এটুকু বলেই সুনয়না কেমন করে যেন কেঁপে উঠলেন। সম্ভবত দৃশ্যগুলো তার চোখের সামনে ফুঁটে উঠেছিলো। আমি নীরবে তার দিকে একগ্লাস পানি এগিয়ে দিতেই তিনি কেমন ভয়ার্ত চেহারায় তাকালেন, তারপর এক কি দু সেকেন্ড পর হাসিমুখে বললেন, ধন্যবাদ।

আমি তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, আপাতত তাকে কিছুটা সময় নিজের মতো থাকতে দেওয়া উচিত। তাই, আর কিছু না বলে চুপচাপ একটি সিগারেট ধরালাম। আর ভাবতে লাগলাম, রক্তে মাংসে গড়া একটি শরীর, তার জন্য কত কি! প্রতিটা মুহুর্তে তক্কে তক্কে থাকা, কখন একটু সুযোগ হবে, কখন একটু ভোগ করতে পারবো!

আচ্ছা, মনুষ্যত্বের কারণে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ- লোকে বলে। জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি জৈবিক চাহিদায় মানুষ যৌন-সঙ্গম করে। এবং এই যৌন-সঙ্গম মানুষকে আনন্দ দান করে।
কিন্তু, জোর পূর্বক, অন্যের অমতে যখন যৌন সঙ্গম হয় তখন একপক্ষ কখনোই সুখ পায়না। অসহায়ত্ব আর বেদনায় সে কাতরাতে থাকে। আর, এই অসহায়ত্ব, কাতরতা দেখে অপরজন স্বর্গ সুখ লাভ করে। এ কেমন মনুষ্যত্ব? এ কেমন সুখ?

অন্যকে আঘাত করে সুখ অর্জন কি মানুষের কাজ? নাকি, পশুর কাজ?
আচ্ছা, পশুও তো প্রয়োজন ছাড়া কাউকে আঘাত করেনা।
তাহলে, এই মানুষগুলো কি মানুষ? তাকে কি পশু বলা যাবে? না কি অন্যকিছু?

অজানা কিছু প্রশ্ন নিয়ে আমি নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম সুনয়নার দিকে। শান্ত-স্নিগ্ধ মুখ নিয়ে তিনি বসে আছেন আমার পাশে। অথচ, কি দুর্গম গিরি কান্তার মরু পার করে এসেছেন, তা তিনি ছাড়া আর কেউ কখনো বুঝতেই পারবেনা।

(চলবে..)

-জিসান রাহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.