ফেরা (ছোটগল্প)

অফিস থেকে বের হয়ে মাহাবুব রাস্তা পার হল। রঞ্জুর জন্য একজোড়া জুতা কিনতে হবে।এই দোকানের সেলস ম্যান টা পরিচিত।

“কার জুতা ভাইজান, ভাবীর ?
মাহাবুব হাসল “হুম”।
“মাপ আনছেন ? ”
মাহাবুব পকেট থেকে একটা সুতা বের করল। ” আগের বার মাপ দিয়া ছোট জুতা দিয়ে দিছিলা, ঠিকমতন মাপ দিও!”

জুতার প্যাকেট নিয়ে দৌঁড়ে বাস ধরল মাহাবুব। অফিস ক্লার্কের চাকরী টা হয়েছে দুবছর হল।রঞ্জুকে বিয়ে করার একমাসের মাথায় এই চাকরী টা হয়েছে। মেয়েটার ভাগ্য ভাল, লক্ষীমেয়ে!! কি যে সুন্দর করে সে ঘরদোর গুছিয়ে রাখে! অফিস থেকে ঘরে ঢুকলেই লেবুর শরবত নিয়ে আসে! শরবত খাবার পর প্রতিদিন জিজ্ঞেস করে – মিষ্টি হইছে?
সে একদিন মজা করে বলছিল– না হয় নাই!!
” আল্লাগো! আপনি বলবেন না? ছিঃ ছিঃ! দাঁড়ান আমি আরেক গ্লাস বানাই নিয়া আসি” বলেই সে ছুটে রান্না ঘরে গেল, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পানির জগ উল্টে ফেলে দিল!

“ভাইজান টিকিট! ” চমকে উঠল মাহাবুব।কন্ট্রাক্টরের দিকে তাকিয়ে হাসল সে!!

বেল বাজাতেই রঞ্জু দরজা খুলল। ” বেল দিলেন ক্যান? আপনি জানেননা বাবু এইসময় ঘুমায়! কত কষ্ট করে ঘুম পাড়াইছি! যদি উইঠা যাইত? ”

মাহাবুব হাসল– রঞ্জু কাজল দিয়েছে চোখে! “জুতা আনছি তোমার! দেখেতো মাপ ঠিক আছে কিনা? ”

গোসল সেরে বাথরুম থেকে বের হয়ে মাহাবুব দেখল, জুতা পড়ে রঞ্জু সারাঘর ঘুরে বেড়াচ্ছে! তাকে দেখেই হেসে ফেলল! ” পাথর ওয়ালা একজোড়া জুতার খুব শখ আছিল আমার! আপনি কেমনে জানলেন? ”

” রকিব কোথায় গেছে?

পাশের ঘরে, কামাল ভাইয়ের ছেলেটার সাথে ভাব হইছে! একই বয়সের তো!!

“আম্মা বাড়ী থেকে যে পিঠা পাঠাইছে, কামাল ভাইয়ের ঘরে পাঠাইছিলা? ওরা অনেক ভালো মানুষ। যখন তুমি আসো নাই, ভাইজান প্রায়ই আমারে ডেকে নিয়া যাইতেন, ভাবী যে কত যত্ন করে খাওয়াতেন!
শোন – আসার পথে সদর ঘাট হয়ে আসছি, লঞ্চের কেবিন ঠিক করে আসলাম!”

“কেবিন ক্যানো করলেন? রকিবরে নিয়া আমি চাদর বিছিয়ে চলে যাইতাম! এত্তগুলা টাকা নষ্ট করার কি দরকার ছিল?”

“বাবার বাড়ী যাইতেছো, ফকিরের মত যাবা ক্যান ? আর রকিব কি ভাববে, তোমার ভাইয়ের কাছে আমার একটা ইজ্জত আছেনা!! কাল তো শুক্রবার, জুমা পইড়া আমি তোমাগোরে লঞ্চে উঠাইয়া দেব! পরের শুক্রবার আবার গিয়া নিয়া আসব।”

রাতের খাওয়া সেরে মাহাবুব মশারীর মধ্যে ঢুকল।ছেলেটা ঘুমের মধ্যে হাসতেছে, নিচু হয়ে চুমু খেল তাকে।

আপনারে না বলছি বাবুর ঠোঁটে চুমু দিবেন না! অসুখ করে,আর ঘুমের মধ্যে বাচ্চাগো আদর করলে জিদ বাড়ে! মানা করলেও শুনেন না !!

মাহাবুব রঞ্জুর দিকে তাকাল – সবুজ রঙে তারে খুব মানায়! শাড়ী টা পুরানো হয়ে গেছে, বেতন পেলে নতুন একটা সবুজ শাড়ী কিনে দিতে হবে, জরীপাড় ওয়ালা!!

শোবারঘরের লাইট বন্ধ করে রঞ্জু বারান্দার লাইট জ্বালাল। “আপনি আজকেও ডিমলাইট আনেন নাই, না?”

“আহারে ! একদম মনে ছিলনা, বিশ্বাস কর! কাল নিয়া আসব।
রঞ্জু হাসল।

বাচ্চার কান্নায় ঘুম ভাঙল মাহাবুবের, রঞ্জু কে ওঠাল সে–” এই ওঠো, বাবু কানতেছে, দেখোনা!!

রঞ্জু উঠে বসল- পেশাব করছে! কাঁথা পালটে যত্ন করে শুইয়ে দিল বাচ্চাকে!
“বাবুর হাতে এখন ও ব্যাথা, টিকা দিলাম যে কাল! আপনি কোলে নেয়ার সময় সাবধানে নিয়েন কিন্তু! কি দেখেন? ”

মাহাবুব হাসল— ” এই পাশে আসোনা রঞ্জু! বাবুরে সবসময় মাঝখানে দিয়া রাখো! একপাশে দিলে কি হয়!!”

রঞ্জু লজ্জা পেল– কি যে বলেন না! পাশে দিলে বাবু যদি পড়ে যায়?”

” ক্যান পড়ে যাবে, কোলবালিশ দিয়া দিবা! তুমি আসলে আগের মত আর ভালই বাসনা আমারে!! “এইকথা বলতে পারলেন আপনি?” ব্যথিত চোখে তাকাল রঞ্জু, এসব কথা বললে আমার অনেক কষ্ট লাগে, ক্যান বলেন এইসব!!”

রঞ্জুকে কাছে টানলো সে, কপালে চুমু দিল। “কাজল দিছ রঞ্জু? আরে এত লজ্জা পাইতেছ ক্যান? চোখ বন্ধ করে থাকবা? খুলবা না?”

মাহাবুবের খোলা বুকে মাথা রাখল রঞ্জু! গায়ের এই গন্ধটা এত্ত পছন্দ তার।!!

পুরো সকাল টা চলে গেল গোছগাছ করতে। দুপুরের রান্না শেষ করে ফেলল রঞ্জু। এত্ত গরম পড়েছে!! গা ধুয়ে শোবার ঘরে এসে দেখলো বাবুকে নিয়ে মাহাবুব খেলছে!
“চলেন ভাত খেয়ে ফেলি, রান্না শেষ! আপনি জুমা পড়ে আসলেই আমরা বের হয়ে যাব!”

খাওয়া শেষ করে রঞ্জু দ্রুত গুছিয়ে ফেলল সবকিছু!! শাড়ী পালটে নিল,এই শাড়ী টা গত ঈদের রাতে পড়েছিল শুধু একবার! নতুন গন্ধটা যায়নি!

“একসাথে সি এন জি নিয়া আসছি! সব রেডি? তাইলে চল নামি।রাস্তায় যে জ্যাম! যাইতে সময় লাগবে। মাহাবুব ব্যাগ গুলা নিয়ে নীচে নামল।

সদরঘাট পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে তিন টা বেজে গেল! লঞ্চের দোতলায় কেবিনে ব্যাগ রেখে বাইরে দাঁড়াল তারা।
“বাবু খুব মজা পাইতেছে,দেখেন কেমন ছটফট করতেছে! লঞ্চ কখন ছাড়বে? ”

বললতো ছয়টায়। তুমি আর বাবুরে নিয়া বাইরে দাঁড়াবা না, কেমন লাফাইতেছে দেখ!সামলাইতে পারবানা। রকিবের কোলেও দিওনা!”

পৌনে ছয়টার দিকে লঞ্চের সিটি বাজল বিকট শব্দে।মাহাবুব রঞ্জুর দিকে তাকাল- ” আর ১০/১৫ মিনিট আছে। সাবধানে থাইকো রঞ্জু! বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে আদর করল সে। আগামী শুক্রবার গিয়া আমি তোমারে নিয়া আসব, ঠিক আছে? যাই আমি। আরে! তুমি কানতেছ ক্যান?”
“নিজের যত্ন নিয়েন। রাত করে বাসায় আসবেন না। ফোন দিবেন প্রতিদিন। গলা ধরে এল রঞ্জুর।

লঞ্চ ঘাট ছাড়ল ছ’টা দশে। রঞ্জুর এত্ত কষ্ট লাগতেছে!! মানুষ টা একটা ডিমও ভাজতে পারেনা! কি খাবে এই কয়দিন আল্লাহ জানে!একটা ফ্রীজ থাকলে কিছু রান্না করে রেখে আসা যেত! এবার। ঈদ আর কোরবানির বোনাস, আর নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটা ফ্রীজ কিনে ফেলবে সে! সব মিলিয়ে হয়ে যাবে নিশ্চয়ই!!

রকিব কেবিনের দরজায় দাঁড়াল -“আপা, যে মেঘ করছে! রাত্রে অনেক বৃষ্টি হবে দেইখ!”

রঞ্জু ঘড়ি দেখল সাড়ে ন’টা বাজে- ” রকিব আয় ভাত খেয়ে ফেলি!
বাবু ঘুমিয়ে গেছে, সাবধানে তাকে শুইয়ে দিল।বাচ্চাটার কি হইছে কে জানে!ঘুমাচ্ছে না, খালি কানতেছে! অনেক কষ্ট করে ঘুম পাড়াতে হল!
শুয়ে পর রকিব, বাইরে ঘোরাঘুরির দরকার নাই! লাইট বন্ধ করে রঞ্জুও শুয়ে পড়ল,।
শুয়ে শুয়ে কত কি যে চিন্তা করল!!আব্বারে এবার বলতে হবে বাবুর একটা ভাল নাম ঠিক করে দিতে।সাত মাস চলতেছে বাচ্চাটার একটা ভাল নাম রাখা হইল না! মাহাবুবের কথা মনে পড়ল তার! কি করতেছে কে জানে!!সাত টা দিন একলা থাকবে! কত্ত কষ্ট পাবে খানাদানায়!

ঘুম ভাঙল প্রচণ্ড চিৎকার চেঁচামেচিতে! লাইট জ্বালাল রঞ্জু। “এই রকিব কি হইছেরে,ওঠতো!!এতরাতে লোকজন চিৎকার করতেছে কেন?”

রকিব উঠে বসল– কেবিনের দরজা খুলতেই বাতাসের ঝাপটা লাগল প্রচণ্ড! ” আপা ঝড় হইতেছে”!রকিব বাইরে বের হল,ফিরে এল দৌঁড়ে — আপা সর্বনাশ হইছে! লঞ্চের নীচ তলায় পানি উঠতেছে!”

রঞ্জু আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে রইল– কি করব রকিব? বাবুর দিকে তাকাল একবার! দ্রুত কেবিনের বাইরে এল সে। আতঙ্কিত মানুষ জন ছোটাছুটি করছে! বাতাসের দাপটে দাঁড়ানো যাচ্ছেনা! বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যাচ্ছে সমস্ত শরীর। পাগলের মত এদিক ওদিক ছোটাছুটি করল কতক্ষণ! একজন লোককে দেখতে পেয়ে ছুটে গিয়ে হাত ধরল সে — ” ভাইজান লঞ্চ কি ডুইবা যাইতেছে?”

” লঞ্চের তলা ফাইটা গেছে, নীচতলা ডুইবা গেছে রে বইন!! লোক টা কাঁদতে লাগল।।

সমস্ত শরীর অবশ হয়ে এল রঞ্জুর! সে দৌঁড়ে কেবিনের কাছে এল। ” রকিব কি হবেরে এখন!! চিৎকার করে কাদতে লাগল রঞ্জু! ” আমার বাবুটারে কেমনে বাচাব, রকিবরে!

রকিব কাঁদছে – ” আপা কেবিন থেকে বের হও আগে”! রঞ্জু বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বের হল। মানুষের আহাজারি তে পাগল হয়ে যাচ্ছে সে। বাচ্চা টা ঘুম থেকে জেগে চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে! লঞ্চ কাত হয়ে যাচ্ছে একদিকে । রঞ্জু তাকিয়ে রইল।মাহাবুবের মুখ টা মনে পড়ছে বারবার ! বাচ্চাটার দিকে তাকালো সে।
” আপা আমার হাত ধর, সামনের দিকে আগাই চল!

রকিব হাত ধরল।রঞ্জু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল — ” বাবুরে নিয়া সাতার দিব ক্যামনে? মইরা তো যাব নিশ্চিত! কারো সাধ্য নাই বাঁচানোর।! লাশ এদিক ওদিক ভাসলে মাছে খাবে শকুনে খাবে! তোর দুলাভাই লাশ চিনতে পারবেনা রকিব! ভাসতে ভাসতে বেশী দূরে চইলা গেলে হয়তো খুঁজেই পাবে না কেউ!!

রকিব হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল– ” এসব কি বলতেছ আপা! তুমি আসোতো!আমার হাত ধর।!”

” তুই ছাড় আমারে!! ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল রকিব কে সে! তোর দুলাভাই এই কেবিন নম্বর টা জানে, আল্লাহ্‌ যদি তোরে বাঁচাইয়া রাখে, তারে বলবি আমি কেবিন টার মধ্যেই আছি !! পঁচে যাই গলে যাই তারপর ও লাশ দুইটা তো পাবে! তুই যা! ঝাপ দে এক্ষনি! লঞ্চ ডুইবা গেলে পানির চাপে নীচে চইলা যাবি, উপরে উঠতে পারবিনা, যা তুই,,,,”
ধাক্কা দিয়ে রকিবকে বাইরে বের করে দিয়ে কেবিনের দরজা ভেতর থেকে আটকে দিল রঞ্জু! রকিব চিৎকার করে কাঁদতে লাগল! আপা, ও আপা!:এইটা কি করলি তুই!পাগলের মত দরজা ধাক্কাচ্ছে সে, কিন্তু রঞ্জু কোন সাড়া দিল না!! হুশ ফিরল তার!! পানি কোমর পর্যন্ত! ঝাপ দিল রকিব।!

কাল সারাটা রাত একটু ও ঘুমাতে পারেনি, কি যে অস্থির লেগেছে! শেষ রাতে একটা স্বপ্ন দেখলো সে! কি যে সুন্দর স্বপ্ন! খোলা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সে, রঞ্জুর হাত ধরে, প্রবল বাতাসে তার শাড়ীর আচঁল উড়ছে, রঞ্জু ফিসফিস করে বলল। ” আমার ক্যান যেন খুব ভয় করতেছে!! মাহাবুব তারে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে! তখনি ঘুমটা ভেংগে গেল!স্বপ্নের রেশ টা রয়ে গেছে এখনো। মাহাবুব ঘড়ি দেখল ৭:৩০। ঝটপট রেডি হয়ে দরজায় তালা বন্ধ করে ঘুরতেই কামালভাই কে দেখতে পেল সে–

” অফিসে যাও মাহাবুব? একটু ঘরে আসো।”

“দেরী হয়ে গেছে ভাইজান! এরপর আর বাস পাবোনা তো!!

কামাল হাত ধরল মাহাবুবের- “তুমি আসো এদিকে, বসো। দরকার আছে!! ”

“কি হইছে কামাল ভাই? ”

” কাল ওগোরে কোন লঞ্চে তুলে দিছিলা! যেইটা ৬ টায় ছাড়ে??

“হ্যাঁ, ক্যান? ” মাহাবুব দাঁড়িয়ে গেল।

কামালের ছোট মেয়েটা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে উৎসুক ভাবে– ” আংকেল কাল একটা লঞ্চ ডুবে গেছে! খবরে দেখাইতেছে বারবার! ”

মাহাবুব বসে পড়ল! কামাল কাঁধে হাত রাখলো– ” শক্ত হও ভাই আমার! কিছু লোক বেঁচে গেছে! সাঁতরিয়ে কূলে উঠতে পারছে! চাঁদপুরের একটু সামনে গিয়া ঝড়ে পড়ছিল। পানির চাপে তলা ফাইটা ডুবে গেছে।”

“বাচ্চাটা নিয়া রঞ্জু কেমনে সাঁতরাবে কামাল ভাই! ওতো আর নাই, আহা!! কত কষ্ট পাইছে আমার রঞ্জু! ভাইজান আমার বাচ্চাটা!” আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার দিল মাহাবুব!” আমার শরীরে শক্তি নাই ভাইজান!! আমারে একটু নিয়া চলেন ওইখানে!”

চাঁদপুরের লঞ্চঘাটে মানুষের ঢল। দিশেহারা কামাল।কাকে জিজ্ঞেস করবে! উদ্ধারকারী দলের একজনের হাত ধরল সে– “ভাইজান যারা বেঁচে গেছে, তারা কই আছে?”

“সরকারী হাসপাতালে চলে যান, লিস্ট আছে ওদের কাছে, বেশী র ভাগই হাসপাতালের বেডে!” দ্রুত গতিতে চলে গেল লোক টা!!

মাহাবুবকে নিয়ে কামাল সরকারী হাসপাতালে ছুটল। সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই রঞ্জুর বাবা মাকে দেখতে পেল তারা।মাহাবুব কে দেখেই চিৎকার দিল রঞ্জুর মা–
” বাবারে! আমার রঞ্জু আর নাই! ছোট্ট সোনাটারে নিয়া চইলা গেছে সবাইরে ছাইড়া!”

মাহাবুব স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দুঃস্বপ্নের মত মনে হচ্ছে তার সব কিছু! ধীরপায়ে সে রকিবের বেডের কাছে দাঁড়াল। ” রাইখা আসলি রঞ্জুরে, আমার ছোট্ট বাবুটারে!!”

রকিব কেঁদে উঠল শব্দ করে– “সেতো চেষ্টা ও করতে দেয়নাই আমারে! কেবিনের মধ্যে ঢুইকা দরজা বন্ধ কইরা দিছে! বলছে- মাছে শকুনে খেলে কেউ চিনবেনা তারে,খুইজা পাবেনা! ওই কেবিন টায় থাকলে তার লাশ খুঁজে পাবেন আপনি! আমি হাত ধরে কত টানলাম, বলে বাবুরে নিয়া সাঁতার দিব কেমনে! ”

বুক টা ফেঁটে যাচ্ছে মাহাবুবের! তার আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠলো হাসপাতালের বাতাস!!

তিন দিন পরে লঞ্চ তোলা হল। উদ্ধারকর্মীরা লঞ্চের ভেতর থেকে একের পর এক লাশ বের করছে। মাহাবুব তাকিয়ে আছে শূণ্যদৃষ্টিতে! কামাল তাকে নিয়ে লঞ্চের কাছে গেলো–
“কেবিন নম্বরটা কত ছিল মাহাবুব?”

মাহাবুব দীর্ঘশ্বাস ফেলল – “২০৮”!

দরজা ভাংগা হল। ২০৮ নম্বর কেবিনের। তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে! উদ্ধারকর্মীরা হাঁক দিল- “এইখানে একজন মহিলা আর একটা বাচ্চার লাশ স্যার!!”

চাটাইতে পেচিয়ে তারা লাশ বের করল। রঞ্জুর নুপুর পড়া পা দুইটা বেরিয়ে আছে চাটাইয়ের ভেতর থেকে! মাহাবুব তাকাল- “খুব শখ করে নূপুর জোড়া বানাইছিল রঞ্জু…………….. ..!

-নাঈমা পারভীন অনামিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published.