একটি অমিমাংসিত রহস্য (৬ ষ্ঠ পর্ব)

বাংলোয় ফিরেই টের পেলো কেউ একজন তার বাংলো ঘুরে গিয়েছে। কোনো চিহ্ন কোথাও রেখে যায়নি। কিন্তু তবুও রাজিব বুঝতে পারলো তার কাপড় চোপড়ও ঘাটাঘাটি করা হয়েছে। ভাগ্যিস রানার কলমটা তার সাথেই ছিল। খুব কৌতুহল হচ্ছে রানার কলমটা খুলে দেখার, কিন্তু অনেক কষ্টে সে সেটা দমন করলো। অন্যপক্ষের নজরে কিছুতেই পড়া যাবেনা। তাদের বোঝাতে হবে যে, সে শুধুমাত্র ছুটি কাটাতেই এখানে এসেছে।

দুপুরে খাওয়া দাওয়া করলো খুব স্বাভাবিক ভাবে। যদিও গলা দিয়ে কিছুই নামতে চাইছিলনা। রানার কথা একটা মুহূর্তও মন থেকে সরাতে পারছিল না। কি এমন জানতে পেরেছিল রানা, যার জন্য এমন নির্মমভাবে খুন হতে হলো তাকে? গতকাল রাত থেকে আজকের দুপুর পর্যন্ত যা যা ঘটেছে তা একে একে ভাবতে লাগলো। সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বড় খটকা টি হলো গত রাতের ঘটনা, রানা তার কাছে এলো, কিন্তু আসলে সে আসেনি। তাহলে ব্যাপার টা কি হলো? রানার বলা প্রতিটি কথা মিলে গেলো অথচ রানা ততক্ষনে এই পৃথিবীতেই নেই। সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। রানার কলমটা বুক পকেটে রাখা, হাত দিয়ে স্পর্শ করে শপথ করলো যে করে হোক রানার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবে, রানার খুনীদের সব্বোর্চ্চ শাস্তি সে দেয়ার ব্যবস্হা করবে। কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পারেনি। ঘুম ভাংলো মারুফের ফোনে।
স্যার, আপনার বাঁশ দিয়ে হাঁস খাওয়ার ব্যবস্হা হয়ে গেছে। আজ রাতে চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়িতে আপনার দাওয়াত। উনার লোক আপনার বাংলোয় গিয়েছিল বলতে কিন্তু আপনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো মারুফ।

ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই।
আমি এসে আপনাকে সাথে করে নিয়ে যাবো।
আপনি কখন আসবেন?
এই সাড়ে সাতটা নাগাদ।
ওকে, বলে ফোনটা কেটে দিল রাজিব।

চেয়ারম্যান সাহেবের বাসায় যাওয়ার আগে তাকে কিছু প্রিপারেশন নিতে হবে। হাতে মাত্র দুটো ঘন্টা সময় আছে।
এর মধ্যে তাকে কিছু কাজ সারতে হবে।

কাজ গুলো গুছিয়ে শেষ করতে না করতেই মারুফ সাহেব এসে হাজির।
বললেন, চলুন স্যার।

চলবে…..

-জাহেদা মিমি

Leave a Reply

Your email address will not be published.