অতিপ্রাকৃত

ঘটনা-১

তখন রোজীর যে বয়স সেই বয়সে প্রেম করবে, উচ্ছল তরুনীর মতো দৌঁড়ে ঘুরে বেড়াবে ,চঞ্চল হরিনীর মতো ছটফট করবে এমনটাই স্বাভাবিক ।ঝলমলে রোদের মতো মন খোলা আর প্রানবন্ত রোজীর সৌন্দর্যের কোন কমতি ছিল না ।
হঠাৎ কি হলো এক দিন সন্ধ্যা নামার ঠিক পর পর রোজী তাদের কাচারী ঘরের দাওয়ায় বসে আছে ।গ্রামের সন্ধ্যা মানে একটু বেশিই অন্ধকার । রোজীর মা তাকে কয়েকবার বলেছে বাসার ভেতরে চলে আসতে । আসি আসি বলেও রোজী বসে ছিল ।চারিদিক অন্ধকার করে সন্ধ্যা নেমে আসছে, বসে সেই অন্ধকার দেখতে তার কেমন যেনো অন্য রকম ভালো লাগছিল। হঠাৎ কি হলো ! কেউ একজন মনে হলো তার পাশে বসেছে চুপটি করে । পাশ ফিরে নিজের বা দিকে ঘুরেই রোজী জ্ঞান হারায় ।

মা’য়ের কয়েক বার ডাকেও যখন সারা দিচ্ছিল না , তখন সন্ধ্যা বাতি হাতে নিয়ে মা’ দৌঁড়ে এসে দেখেন, রোজী অজ্ঞান অবস্হায় ঘরের দাওয়ায় পরে গোঙ্গাচ্ছে ।
এর কোন ব্যাখ্যা কোন ডাক্তার , ওঝা, কবিরাজ দিতে পারে নি । কিন্তু তারপর থেকে রোজী প্রচন্ড ভয়ে কুঁকড়ে থাকত । হঠাৎ হঠাৎ কারো ডাক শুনে চিৎকার দিয়ে উঠতো।

ঘটনা-২

প্রায় সাত মাস হয় হয় বাচ্চা পেটে বিশাল দেহি মনোরমা। রাতে প্রায়শই ঘুম হয় না । হলেও ঘোড়া যেমন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমায় মনোরমা দুই হাতল দেয়া তার চেয়ারটায় বসে বসে ঘুমায় ।
সারা দিন কঠিন পরিশ্রমে ক্লান্ত মনোরমার স্বামী বেঘোরে ঘুমায়। কোন কোন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে , বিছানার পাশটা খালি দেখে উঠে ড্রইংরুমে যেয়ে দেখতো , চেয়ারে বসে মনোরমা ঝিমুচ্ছে ।
টেনে এনে বিছানায় শুইয়ে দিতো ।

বাথরুমের চাপ অনেকক্ষন ধরে আটকে রাখা মনোরমার এক বদ অভ্যাস ছিল । একদম না পারতে যায় এই রকম অবস্হা । ওদের বাথরুমটা বাসার অনেকটা উত্তরের দিকে । ড্রইংরুম থেকে বের হয়ে আট দশ কদমের লম্বা প্যাসেজ পেরিয়ে মাঝে ছোট্ট একটা আয়না ঘর কিংবা চেঞ্জিংরুমও বলা যায় । এই জায়গাটা মনোরমার খুব পছন্দ । অন্ধকারেও ঝলমল করে আলো । তারপর বাথরুম । ধব ধবে সাদা সব কিছু দিয়ে পরিপাটি করে সাজানো গোছানো । মনোরমা সময় পেলেই ঘর সাজাতে বসে যায় ।

এক রাতে মনোরমার দু’চোখের পাতায় এক ফোটা ঘুম নেই । বিছানায় গড়াগড়ি করে উঠে এসেছে । টিভিটা ছেড়ে চেয়ারে এসে বসেছে, টিভিতে একটা সুন্দর নাটক দেখে ভালো লাগছিল দেখতে ,সাথে বাথরুমের চাপ । তবুও অলসতা করে ভাবছে যাই, নাটকটা আর একটু আছে শেষ করেই যাই । এই করে করেই যখন প্রচন্ড চাপ বাথরুমের তখন চেয়ার থেকে উঠে মনোরমা রওনা দেয় । প্যাসেজটা পেড়িয়ে চেঞ্জিং রুমের সামনে এসে মনোরমার পা আটকে যায় । এলো চুলে এক অদ্ভুত কায়দায় মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে এক রমনী বসে আছে । আধো আলো আধো অন্ধকারে মনোরমা প্রচন্ড জোড়ে চিৎকার দিয়ে সাথে সাথেই তার জ্ঞান হারায় । মনোরমার স্বামী চিৎকার শুনে ঘুমের ঘোরে এলো পাথারি দৌঁড়ে এসে মনোরমাকে চেঞ্জিংরুমে পায় অজ্ঞান , ঘর্মাক্ত ভেজা কাপড় চোপড়ে জড়ানো।

পর দিন সকালে, জ্ঞান ফেরার পর মনোরমা কিছু বলতে চায় নি । তবে প্রায় প্রতি রাতেই সে চেঞ্জিংরুমে কাউকে চুল এলোমেলো অবস্হায় মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখতো ।

এভাবেই বাকী দুই মাস পার করে ঠিক নয় মাসের শেষে মনোরমার কোল জুড়ে আসে ফুট ফুটে এক পরীর বাচ্চা। মনোরমা সব ভুলে যায়। জীবন চলতে থাকে । কিন্তু মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে বাথরুমে যাওয়ার সময় হঠাৎ হঠাৎ একটু আধটু ভয় পায় ।

মানুষের জীবনে এমন অনেক কিছুই ঘটে যার কোন ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা নাই ।

-ফারহানা কলি


Leave a Reply

Your email address will not be published.