সেই তুমি

জুনের দুপুরবেলা। শনিবারে আজ অফিস না থাকায় বাসায় শুয়ে বসে থেকে খুব বোরিং লাগছিলো। বাসা থেকে বের হয়েছিলাম একটু রিফ্রেশ হতে, মোড়ের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে চায়ের স্টলের দিকে এগিয়ে যাই। সমস্ত রাস্তা জুড়ে কৃষ্ণচূড়া বিছিয়ে কেউ যেন গালিচা পেতে দিয়ে রেখেছে। চায়ের স্টলের পরিমল কাকু বেশ ভালো চা বানান। ঐ কৃষ্ণচূড়ার লাল গালিচায় বসে এক কাপ চা খেতে পারলে মন রিফ্রেশ না হয়ে কোথায় যাবে! 

চায়ের স্টলে বসে চা খেতে খেতেই আকাশ অন্ধকার করে ঝুম বৃষ্টি নামলো, তার সাথে প্রচন্ড বজ্রপাত আর বিদ্যুৎ চমকানিতো আছেই। বজ্রপাত আমি এমনিতেই খুব ভয় পাই। পরিমল কাকা তাই দোকানের কোণে একটা চেয়ার দেখিয়ে বললেন, “কাকা, তুমি অইহানে বসো, বৃষ্টি কমলে যেও।” 

হঠাৎ করেই বৃষ্টিতে ভিজা একঝাক কলেজ পড়ুয়া তরুণী হুড়মুড় করে পরিমল কাকার চায়ের স্টলে ঢুকে পড়লো। বৃষ্টিতে প্রায় ভিজেই গেছে সবাই,বলতে গেলে সবাই কাক ভেজা। পরিমল কাকার স্টলে লোকজনে গিজগিজ করছিলো, কাকা মেয়েগুলোকে দেখে অন্যদের সরে গিয়ে মেয়েগুলোকে একটু সাইড দিতে বললেন।

আমি বসে বসে ফেসবুকিং করছিলাম, হঠাৎ বজ্রপাত হতেই একটা মেয়ে ও মাগো বলে চোখ বন্ধ করে তার এক বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরলো। স্টলের সবার নজর চলে আসলো মেয়েটার দিকে। বজ্রপাতে ভয় আমিও পাচ্ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্য ঐ অসহায় অবস্থায় আমার জড়িয়ে ধরার মত কেউ ছিলো না বলেই ঠোঁটের কোণে বেদনার এক মুচকি হাসি প্রহসনের সুরে ভেসে উঠে।

অনেক দিন পর আজ আবার আদিত্যদা তার প্রিয়তমা মৌরিকে নিয়ে গল্প করতে বসেছেন বিশ্বস্ত কলিগদের সাথে। বর্ষা আসলেই যে আদিত্যদা আর মৌরিকে ভুলে থাকতে পারে না। মৌরি তার হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে বসতি গড়ে আছে আজও। সে শুনেছে মৌরি নাকি  নিউইয়র্ক সিটিজেন এক ছেলেকে বিয়ে করে অনেক সুখে সংসার করছে। আদিত্যদা অনেক খুঁজেছে মৌরিকে সে পায় না খুঁজে তার প্রিয় মানুষটাকে আজও খুঁজে ফিরে এ রঙ বেরঙের দুনিয়াতে কোথায় আছে সে মৌরি?

ডরমেটরিতে একটা রুম নিয়ে আদিত্যদা থাকেন, এ রুমে ঢুকলেই যে কেউ যেন জীবন্ত মৌরির অস্তিত্ব খুঁজে পাবে, এমন ভাবেই মৌরির স্মৃতিগুলোকে সযত্নে সাজিয়ে রেখেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আদিত্য রায় দাদা। আমরা প্রায়ই দাদার চোখে মৌরি নামক কোন কৃষ্ণচূড়াকে দেখতে পাই। মাঝে সাঝে প্রেমে পড়ে যাই সে অদেখা অষ্টাদশী কোন নারী রূপের।

জানিস, রূপক! কদমফুল মৌরির খুব প্রিয় ছিল! “সেজন্যই কি তুমি কদমফুল কিনে আনো আদিত্য দাদা? ” মৌরিকে দ্বিতীয়বার দেখার জন্য তার পরের দিন পরিমল কাকার দোকানে অনেকক্ষণ বসে রইলাম, না তার দেখা মেলে নি। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে পরিমল কাকাকে জিজ্ঞেস করেই ফেলি তার কথা, “কাকা, কাল যে মেয়েটা বজ্রপাতে ভয় পেয়েছিলো, আপনি কি তারে চিনেন?” 

— অই যে সবুজ জামা পরনে ছিলো যে? চিনি তো! এদিকে সুরেশ স্যারের কাছে পড়তো আয়ে। বড্ড ভালা মাইয়া। কলেজে পড়ে।

— তার বাসা কোথায় কিছু জানেন, কাকা?  

— এইহানে মনে হয় ভাড়া থাকে, আমি ঠিকানাটা কইতে পারি না কাক্কু।

— আজ পড়তে আসেনি এদিকে? পরিমল কাকা একটা হাসি টেনে আনে মুখে, এ হাসি যেন চিরচেনা হাসি। আমাকে নিয়ে হাস্যরসের পূর্বাভাসও বটে।

প্রতিদিন আমি মৌরির জন্য অপেক্ষায় থাকি, কিন্তু অপেক্ষারা জানতো না মৌরি কখন এ পথ মাড়িয়ে চলে যায় কেননা আমি তো তখন অফিসে থাকি!  

আবার এক শনিবার!  আষাঢ়ের বৃষ্টি ঝিরিঝিরি ছন্দ তালে সবুজ ঘাসের বুক ধুয়ে দিচ্ছে।  এমনও দিনে তারে পড়ে মনে। আজও মৌরিকে দেখার জন্য মন অস্থির হয়ে উঠেছে। ছাতা হাতে রাস্তায় নেমে আসি, কিন্তু গন্তব্য অজানা। মনে বইছে নাম না জানা সেই মেয়েটাকে দেখার ব্যকুলতা। হঠাৎ যেন মনের ভিতর আনন্দের এক বিদ্যুৎ চমকে গেল! মনের মাঝে এক উথাল পাতাল, অজানা উচ্ছ্বাস! গুড়ি গুড়ি বৃষ্টটিতে ছাতা হাতে এগিয়ে আসছে সেই অষ্টাদশী। আমার কাঙ্খিত আরাধ্যা দেবী আজ হলুদ জামা গায়ে হাতে এক গুচ্ছ কদম ফুল। আজ সে একাই পথ চলছে।

বালিকার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলি “কদম ফুল কি আপনার খুব প্রিয়?” সে অবাক হয়ে তাকায় আমার দিকে। বড্ড নিরঅহংকারী, সদালাপী, মিষ্ঠভাষিনী জানায় তার নাম মৌরি। তার বাবা এখানকার হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা, তিনবছর ধরে এখানকার কোয়ার্টারে থাকে, তাদের স্থায়ী জেলা জামালপুর। ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা দিবে এবার মৌরি। প্রথমদিনের আলাপেই তার সম্পর্কে সব জেনে যাই। জমে উঠে আমাদের বন্ধুত্ব আর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম।

খুব ভালোই চলছিল আমাদের সম্পর্ক কিন্তু হঠাৎ!  আদিত্যদার চোখ জলে ভরে উঠে, এত হাসিখুশি দাদার মনের আকাশ আচমকা মেঘে ছেয়ে গেল। “থাক দাদা চলেন বাইরে থেকে ঘুরে আসি।” আমি বলি দাদাকে। “না রূপক ইচ্ছে করছে না।” তবুও দাদাকে নিয়ে জোর করে বের হই। বাহিরে একটা দুইটা বৃষ্টির ফোঁটা এখনও পড়ছে। হাঁটতে হাঁটতে স্টেশনের গলিটার সামনে এলাম। একটা পাগল মেয়ে বসে বসে নিজের মাথার চুল টানছে। পাগলীটা স্টেশনে নতুন এসেছে, গতকাল সন্ধ্যা সময় প্রথম দেখেছি। বেশি বয়স না আটাশ ঊনত্রিশ হবে আর কি। পাগলীটার পাশ কাটানোর সময় একনজর তার মুখটার দিকে তাকালাম ,ময়লাচ্ছন্ন বদনে একাকী হাসছে। অনেকদিন হয়ত দাঁত মাজে না। আমি পাগলীটাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে হাঁটছি, আদিত্যদা সেদিকে খেয়ালই করেনি।

হঠাৎ করে মুখ খুললেন দাদা, ”বুঝলে রূপক, মৌরি হয়ত এখন কত সুখে আছে, আমাকে তো তার মনেই নেই অথচ আমি আজও তার কথাই ভেবে যাই।” দাদাকে সমবেদনা জানাতে বললাম, “হুম, তাই হয়ত দাদা।” স্টেশনে বসে চা আর সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে অনেক রাত হয়ে গেছে। বৃষ্টিও হচ্ছে অবিরাম।আমি আরেকটু সময় অপেক্ষা করতে চাইলে আদিত্যদা বৃষ্টিতে ভিজেই রওনা দিতে উদ্যত হলেন, অতঃপর আমিও ভিজেই ছুটলাম দাদার পিছু পিছু।

রুমে ফিরে দাদাকে পাগলীটার কথা বললাম, “এই যুবতী পাগলিটা যদি এখানে কোন বিপদে পড়ে?” আদিত্যদা বললেন, “বুঝলে মানুষ কতভাবে কতকিছুর জন্য পাগল।” 

পরদিন অফিসে যাওয়ার সময় পাগলীটাকে দেখলাম ওখানেই বসে আছে, মুখটা বেশ শুকনো। কিন্তু পাগলীটাকে আমার কেন জানি খুব চেনা চেনা লাগছে, কোথায় যেন দেখেছি! সারাদিন অফিসে কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারিনি, বারবার মনে হলো ঐ পাগলি মেয়েটা আমার খুব চেনা। কোথায় যেন দেখেছি। মনটা খুব অস্থির হয়ে রইলো। সন্ধ্যায় ফেরার পথে দেখি মেয়েটা সেখানে নেই। অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো “যাক ভালোই হয়েছে, নাহলে একে দেখে মনে হতো এ আমার খুব চেনা, মনে করতে না পারলে আমার আবার একটা যন্ত্রণা বোধ হতো।” 

খাবারের পর আদিত্যদার সাথে বসলাম একটু, দুজনেই অন্ধকারে সিগারেট ফুঁকছি, “দাদা গতকালের পাগলী মেয়েটাকে দেখে আজ সারাদিন আমার বারবার মনে হয়েছে ওকে যেন কোথাও দেখেছি বা খুব চেনা কেউ আমার, কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছি না।” আদিত্যদা রসিকতা করে বললেন, “তোমার প্রাক্তন নয়ত? তোমার প্রেমের হদিস পায়নি বলে পাগল হয়ে গেছে হয়ত!” “আরে দাদা যে কি বলেন না! কত মেয়ের পিছনে ছুটলাম সুদর্শন নই বলে কেউ কোনদিন পাত্তাই দিলো না।” সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো আমার।

—“তুমি কোন পাগলীর কথা বলছো রূপক আজ দুদিন ধরে? “আদিত্যদা প্রশ্ন করে আমায়

—কেন আপনি দেখেন নি দাদা? স্টেশনের সামনে যে নতুন পাগলিটা এসেছে! হাতে সবুজ হলুদ কাঁচের চুড়ি! আদিত্যদা চমকে আমার দিকে তাকিয়েছে এ অন্ধকারে আমি তা স্পষ্ট দেখতে পেলাম।

—কি হয়েছে দাদা?

— নাহ্ কিছু না

— এভাবে চমকে উঠলেন যে! 

— মৌরির বাবার যখন বরিশাল বদলির অর্ডার হয় তখন আমি তাকে দুই ডজন সবুজ আর হলুদ চুড়ি কিনে দিয়েছিলাম, চুড়ি তার খুব প্রিয়। তার ঐ গ্যাঁজা দাঁতের হাসি আমি আজও ভুলতে পারি না। এবার খানিকটা আমি চমকে উঠি, ঐ পাগলীটা যখন নিজের চুল টানছিলো আর একাকী হাসছিলো তখন দেখেছি ওর ও গ্যাঁজা দাঁত। মাথায় কিছু ঢুকছে না আমার। পরের দিন অফিস যাওয়ার সময় আনমনে পাগলিটাকে খুঁজেছি, না কোথাও নেই। মনটা যেন কেমন লাগছে, অফিসে এসে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছি আর ভাবছি” আচ্ছা যে পাগলীটাকে আমি দেখেছি সে কি মৌরি হতে পারে কোনভাবে? “আবার ভাবছি মৌরি তো আমেরিকা চলে গেছে, আদিত্যদা বলেছেন মৌরি সেখানে সুখের সংসার করছে। বিকালে ফিরে স্টেশনে কয়েকজনের কাছে পাগলীটার কথা জিজ্ঞেস করলাম, কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। একজন বললো পাগলীটা নাকি ট্রেনে উঠে চলে গেছে। হতাশা আর নিরাশা নিয়ে নিজের রুমে একাকী বসে আছি, মনে হচ্ছে আমি কিছু পেয়েও হারিয়ে ফেলেছি। হঠাৎ দরজায় কে যেন নক করলো, দরজা খুলে দেখি আদিত্যদা। দাদা ভেতরে এসে পাশে বসলেন “কি হয়েছে রূপক, অফিস থেকে ফিরে দরজা আটকে বসে আছো যে!” “কিছু না দাদা, ক্লান্তি লাগছে খুব।” নির্বিকার উত্তর দিলাম। হঠাৎ করেই আদিত্যদার দিকে ঘুরে বসলাম,

—“আচ্ছা দাদা মৌরিকে সর্বশেষ কবে দেখেছেন?” 

—“মৌরিকে দেখেছি সেই কোন এক বৃহস্পতিবার তারপর আর  এককোটি বছর হয় তাকে দেখি না। “কবিতার লাইন উৎরায় আদিত্যদা।

—না দাদা সিরিয়াস বলেন,সে যে বিদেশে গেছে সেটা আপনি নিশ্চিত? তার কি বিয়ে হয়ে গেছিলো? তার পরিবার এখন কই থাকে?

—মৌরির বাবা বলেছিলো মৌরির বিয়ে হয়ে গেছে, প্রবাসী সিটিজেন। মৌরি সেখানে চলে যাবে।আমার সাথে  সেদিন লোকটা অদ্ভুত আচরণ করেছিলো।

—কি রকম আচরণ? 

—কখনও রাগে গজগজ করে, কখনও অনুনয় বিনুনয় করে আবার কখনও মারতে উদ্যত হয়। অবশেষে বাধ্য হয়ে আমি ফিরে আসি। কিছুদিন পর মৌরির বাবা মারা যায়। তার বছর দুয়েক পর মৌরির মা হার্ট এটাকে মারা যায় খবর পেয়েছি কিন্তু মৌরির কোন খবর কেউ দিতে পারে নি, গ্রামবাসী নাকি কোনদিন মৌরিকে দেখেই নি। মৌরিকে তারা আগেই নিউইয়র্কে পাঠিয়ে দিয়েছিলো, রূপক।

—না মৌরি নিউইয়র্ক যায় নি দাদা।চমকে উঠে আদিত্যদা, “তুমি কি করে জানলে রুপক?” 

—“আমি মৌরিকে দেখেছি দাদা”

—কি বলছো তুমি? কোথায়?  

— আমি যদি ভুল না হই সেদিন যে পাগলির কথা বলেছিলাম সেটাই মৌরি! আদিত্যদার চোখ থেকে অঝোরে ঝরছে বাদল ধারা, যেভাবে বাহিরে ঝরছে আষাঢ়ের বৃষ্টি।

রাতের অন্ধকারে বৃষ্টিতে ভিজে দুজন ছুটতে ছুটতে স্টেশনে আসি, উদ্দেশ্য প্রতিটা স্টেশনে স্টেশনে মৌরিকে খুঁজতে হবে। শেষ ট্রেন টা আসবে রাত ১২টায়। ট্রেনে চেপে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে পাগলিটাকে খুঁজলাম কোথাও পেলাম না। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় আর হতাশা নিয়ে ফিরলাম আমরা, আদিত্যদার মুখের দিকে যেন আর তাকানো যাচ্ছে না। হৃদয়ের বেদনা যেন বদনে ফুঁটে উঠেছে।

—রূপক, আমি আজ একটু বাড়ি যাবো।এখানে আমার ভালো লাগছে না।

— কিন্তু দাদা, ওখানে মৌরিকে নিয়ে অনেক স্মৃতি, সেই পরিমল কাকার দোকান, সেই রাস্তা, কদমতলা, মৌরির বাবার কোয়ার্টার এসবের জন্যই তো আপনি ওখানে যান না!  আজ হঠাৎ?  

— মৌরির স্মৃতির গন্ধটুকু অনুভব করতে যাচ্ছি, রূপক।

— আমিও যাবো আপনার সাথে?

— নাহ্, আমি একাই যাবো।আদিত্যদা কে বিদায় দিয়ে মনটা যেন কেমন করছে। খারাপ কিছু হবে না তো! আমিও দাদাকে অনুসরণ করে রওনা হলাম। আষাঢ় মাসের আকাশ, যখন তখন আকাশ কালো মেঘে ঢেকে বৃষ্টি নামে। আদিত্যদা ফুলের দোকান থেকে এক গুচ্ছ কদমফুল কিনে নেন। বৃষ্টিভেজা পিচঢালা পথ যেন উনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে উনার মৌরির কথা। আদিত্য ফুল হাতে হেঁটে যাচ্ছে যেন অদৃশ্য কোন মৌরি ছাতা হাতে এগিয়ে আসছে তারপানে।

আদিত্যদার বাড়ির গেটে পা রাখার আগে দেখি একটা ভাঙা দোকান, সম্ভবত কোন চায়ের স্টল ছিলো এটা। এটাই কি পরিমল কাকার চায়ের স্টল! আচমকা চোখ যায় স্টলের এক কোণে বসে আছে সেই পাগলিটা!  আমি চিৎকার করে আদিত্যদাকে ডাকি, আদিত্যদা পিছন ফিরে আমাকে দেখে অবাক হয়। আমার মুখে মৌরি নামটা শুনে পাগলিটা অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকায়। ঘুমাচ্ছিলো বোধহয়। আদিত্যদা ছুটে আসে সেই ভাঙা চায়ের স্টলের ভেতরে!  

এখানে পাগলিনী বেশে দুইহাত ভর্তি সবুজ হলুদ চুড়িতে গ্যাঁজা দাঁতে হাসছে আদিত্যদার মৌরি। সেই মৌরি যাকে এক বৃষ্টির দিনে প্রথম এই জায়গাটাতে দেখেছিলো সে। মৌরি অবাক চোখে তাকায় আদিত্যর দিকে, কাঁচাপাকা চুল আর হাফকাট দাঁড়িতেও আদিত্যকে চিনে নেয় পাগলীটা। আদিত্যর হাতে থাকা কদমফুল নিয়ে ঘ্রাণ টেনে নেয়। বৃষ্টিতে ভিজা আদিত্যর বুকে নিশ্চিন্তে মুখ লুকায় মৌরি।

– ইতি মৃণালিনী (অরুন্ধতী অরু)

Leave a Reply

Your email address will not be published.