লেখা এবং লেখকত্ব

নিতুর শরীর নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলো সীমান্ত। তারপর সন্তর্পণে বিছানা থেকে নেমে ডাইনিং রুমে চলে আসলো। ঘড়ির কাঁটা রাত তিনটা ছুঁই ছুঁই। এক গ্লাস শব্দহীন পানিতে সে গলাটা ভিজিয়ে নিল। ঔষধ ভালো কাজ করেছে। চটের বস্তা রেডি করা আছে।

লেখার বাকি অংশ কই? ভ্রু কুঁচকে ধানমন্ডি থানার ওসি মোকাররম সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন।

সীমান্ত বলল – এটা একটা অসমাপ্ত গল্প।

একটা কলম এগিয়ে দিয়ে ওসি সাহেব বলল – এই নিন। এখন বাকি অংশ লিখেন।

বললেইতো আর লেখা যায় না ওসি সাহেব। সময় হলে লিখবো।

আচ্ছা লেখালেখি বাদ দেন। বলেন আপনার স্ত্রীকে কোথায় পুঁতে রেখেছেন?

আশ্চর্য! আমি কমপ্লেইন লিখিয়েছি আমার স্ত্রী নিখোঁজ। আর এখন আপনারাই আমাকে আসামী বানাচ্ছেন?

আপনার বাসায় তল্লাসি করে আমরা যে পাণ্ডুলিপি পেয়েছি। যেটা আপনিই লিখেছেন। আপনাদেরই গল্প। তো গল্পটা শেষ করুন। তাহলেইতো আপানার স্ত্রীকে পাওয়া যায়।

দেখুন ওটা একটা গল্প। আপনারা আমার গল্পের সাথে আমাকে এবং আমাদের গুলিয়ে ফেলছেন।

একটা ফোন আসার পর ওসি সাহেব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। বললেন – আপনি এখন আসুন মি. সীমান্ত। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় আপনার স্ত্রীর নাম, ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের একটা টিম এটা নিয়ে কাজ করছে। আপনাকে আমরা যেকোন সময় ডাকবো।

সীমান্ত থানা থেকে বের হয়ে একটা সিগারেট ধরালো। আশ্চর্য! তার মাথায় নিতুর কোন ভাবনা কাজ করছে না। ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনের এ পর্যায়ে এসে নিতু কেন গায়েব হয়ে যাবে? কেন সে কোন কিছু না বলে চলে যাবে? এসব কিছুইনা। সে শুধু ভাবছে তার গল্পের এন্ডিং নিয়ে।

তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও নিতুর কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। ধানমন্ডির মন ময়ূরী এপার্টমেন্টে সীমান্তর নির্ঘুম রাতের সাথী শুধু জ্বলজ্বলে সিগারেট। আর ধূমায়িত ভাবনা। নিতুকে নিয়ে নয়। গল্পের শেষটায়।

ধানমন্ডি লেকের পশ্চিম পাশে একটা বড় শেওড়া গাছ। তার গোড়ায় খুঁড়াখুঁড়ি চলছে। ওসি মোকাররম সাহেব তার জীবদ্দশায় এরকম অদ্ভুত দেখেনি। সে মোটামুটি নিশ্চিত এখানেই নিতুকে পুঁতে রাখা হয়েছে। তথ্যসূত্র সীমান্ত নিজেই। অণুগল্প নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে তার পুরো গল্পটিই প্রকাশিত হয়েছে।

-জামান একুশে

Leave a Reply

Your email address will not be published.