ললিতা (২য় পর্ব)

সকাল থেকে রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে একজন পেসেঞ্জারও পায়নি হারিছ। রিক্সা নিয়ে কখনো এ মোড়ে যাচ্ছে কখনো বা গলির মোড়ে দাঁড়াচ্ছে কিন্তু কোন পেসেঞ্জারই তার রিক্সায় চড়ছে না। দুপুর হয়ে গেল হারিছ এক টাকাও পায়নি এখনো। এদিকে আবার কাঠফাঁটা রোদ উঠেছে, বাহিরে টেকা যাচ্ছেনা,হারিছ রিক্সা নিয়ে স্টেশনের পাশে বড় গাছটার নিচে যায়,গাছের ছায়ায় রিক্সাটা রেখে একটু হাওয়া খাচ্ছিল, কখন যে দুচোখ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গেছে সে খেয়াল করেনি। খোলা আকাশের নিচে বসে দুচোখ বুজেই ললিতাকে স্বপ্ন দেখছে সে।
ললিতাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হারিছের বরাবরই আনন্দ হয়।
ললিতা ছাড়া হারিছের আর কে ই বা আছে এ পৃথিবীতে! একটা মাত্র ভাই আছে তার বড্ড স্বার্থপর। মা মারা যাওয়ার পরদিনই তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। জীবিকার সন্ধানে ললিতাকে নিয়ে এ ছোট্ট শহরে আসে হারিছ। মাথা গুঁজার ঠাঁইটুকু জাহেরা চাচীর কারনে পেয়েছিল কিন্তু কাজ পাওয়া হারিছের জন্য বড্ড কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সাতদিন আধপেটা খেয়ে ললিতার ঐ সুন্দর মুখটা যেন শুকিয়ে এতটুকু হয়ে এসেছিল। বাধ্য হয়ে হারিছ সেদিন ললিতার হাতের চুড়ি দুটি বিক্রি করে আর সে টাকা দিয়ে এ রিক্সাটা কিনে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ললিতাকে এমন দুইটা স্বর্ণের চুড়ি সে আবার গড়ে দিবে, আজও হারিছ সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে পারেনি।
ললিতাকে নিয়ে হারিছ যখন খোলা আকাশের নিচে বসে স্বপ্ন দেখছে তখনি কে
তাকে ডাক দিল। ধরমড় করে হারিছ উঠে বসে, দেখে যে মাস্টার আপা ললিতাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে সেই আপা।
—কি হারিছ ভাই,ঘুমাচ্ছেন?
— না আফা, একটু জিরাইতাছি। যে গরম!
—হারিছ ভাই কদমতলী যাবেন?
— হ আফা যামু। উঠেন।
মাস্টার আপা রিক্সায় চড়ে বসলে হারিছ মনে মনে ভাবে যাক অবশেষে একটা ভাড়া সে পেলো।
— হারিছ ভাই,রিক্সাটা একটু বদলাতে পারেন না?
— আফা একটা অটো রিক্সার কত দাম! অত টেহা কই পামু?
— এ রিক্সায় তো ভাড়া হয়না। মানুষ দ্রুততার জন্য অটোরিক্সা খুঁজে।
— ঠিকই কইছেন আফা।সহালতে কোন যাত্রী পাইছি না। পয়লা আফনে উঠছেন আইজকা।
মাস্টার আপার হৃদয়ে করুনার উদয় হয়।
— হারিছ ভাই,একটা কথা বলবো?
— কি কথা আফা?
— আপনার এ রিক্সাটা বেচে দিবেন, এতে যে কয়টা টাকা হবে আর বাকি যত লাগে আমার কাছ থেকে ধার নিবেন। পরে শোধ করে দিবেন।
— আফা, আপনে যে কইছেন হেই মেলা কিছু আমার জন্যে।
—আমি কিন্তু ঠাট্টা করছি না, হারিছ ভাই।
—আমি ললিতার লগে বুইজ্জা লই তাইলে।
—আচ্ছা।
ততক্ষণে মাস্টার আপা গন্তব্যে পৌঁছে গেছে, রিক্সা থেকে নেমে হারিছকে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট হাতে দিয়ে বলে,” রেখে দেন।” হারিছ বিস্ময়ে বলে, এখানে ভাড়া মাত্র দশ টাকা, অাফা। ”
মাস্টার আপা বুঝে হারিছ আত্মসম্মানী তাই এভাবে অতিরিক্ত টাকা নিবেনা তাই হারিছকে বলে,”রেখে দেন। আমি তো যাই ই আপনার রিক্সায় করে!” হারিছও মাথা নাড়ায়। পিছন থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করে, “আফা অপেক্ষা করমু? ”
মাস্টার আপা বলে, “না হারিছ ভাই,আমি বিকালে ফিরবো, চলে যান আপনি। ”
হারিছ ভাবছে যদি একটা পেসেঞ্জার পায় তাহলে তার ফিরে যাওয়ার সময় আর কয়টা টাকা হবে। ফাঁকা রাস্তার মাথায় তাই রিক্সা নিয়ে বসে থাকে। আপন মনে হারিছ ভাবছে মাস্টার আপার কথা,মনটা কত নরম তাঁর। ললিতাকে নিজে ডেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছেন, আজ আবার তাকে রিক্সা কিনতে সাহায্য করার কথা বলছেন। মানুষ কি এত ভাল হয়?
ললিতাও হারিছের একটা রিক্সা কেনার জন্য অল্প অল্প করে কিছু টাকা জমাচ্ছে, হারিছ ভাবছে ললিতার সাথে পরামর্শ করে দেখবে যদি রাজি হয় তাহলে মাস্টার আপার থেকে ধার করে সে অটো রিক্সা কিনবেই। যদি অটো রিক্সা হয় তাহলে তার আয়ের পরিমান বেড়ে যাবে, ললিতাকেও আর মানুষের বাড়ি কাজ করতে হবেনা।
এ কথা মনে হতেই হারিছের মনে পড়ে যায় ললিতার সকালের উদ্ভট আচরণের কথা, ললিতার কি হয়েছে?
এখানে বসে বসে হারিছ কোন ভাড়া পায়না তাই রিক্সা নিয়ে বাজারের সামনে আসতেই জুবায়ের দুহাত ভর্তি বাজারের ব্যাগ নিয়ে হারিছের রিক্সায় চড়ে।
—চলো হারিছ, একটু বাসায় পৌঁছে দাও তো। এত বাজার করেছি হেঁটে যাওয়া সম্ভব না।
—আইজকা কি ভাইসাবের অফিস তাড়াতাড়ি ছুটি নাহি?
— তাড়াতাড়ি নয়,তোমার বউ তো আজ কাজে যায়নি,রান্নাও হয়নি, দুপুরের খাবারও নিতে পারিনি। তাই আগে বলে চলে এসেছি।
—কি! ললিতা কাজে যায়নি? কই আমি তো জানিনা!
— বউ এর খবর রাখো তুমি? ওর দিকে কি নজর দাও?? ললিতার মন টন ভাল নেই মনে হচ্ছে।
হারিছ অবাক হয়, কি বলছে এ লোকটা? ললিতার দিকে সে নজর দেয়না? দুদিন ধরে ললিতার অন্যমনস্কতা তো তার চোখে পড়ছেই কিন্তু সে রহস্য সে উদঘাটন করতে পারছেনা। অথচ জুবায়ের সাহেব ঠিকই বুঝে গেছে ললিতার কিছু হয়েছে।
— ভাইসাব, ললিতার কি হইছে আপনে কিছু জানেন?
— ঘরের বৌ রে দিয়া কাজ করাও আর তার খেয়াল রাখো না তুমি!
হারিছ লজ্জা পায়, মাথা নিচু করে লজ্জাতে।
বাসায় পৌঁছে যায় হারিছের রিক্সা। ব্যাগগুলো হারিছ পৌঁছে দিতে যায় ভিতরে, সেখানে সে ললিতাকে দেখে হাড়ি পাতিল ধুচ্ছে। ললিতা হারিছকে দেখে অবাক হয়, হারিছকে বলে, বাসায় যখন আইছোই তহন ঘর তে ভাত খাইয়া যাইও। ” হারিছ ক্ষিধা নাই বলে চলে যেতে যেতে আবার ঘুরে জিজ্ঞাসা করে, “ভাইসাব কইলো তুই নাকি সকালে কামে আইছোস না! ” ললিতা নিরোত্তর থাকে। হারিছ কয়েক দন্ড উত্তরের অপেক্ষা করে বুঝতে পারে ললিতা কোন উত্তর দিবেনা তাই সে চলে আসে সেখান থেকে।
জুবায়েরের আনা সব সবজি,মাছ কেটেকুটে ফ্রিজে রাখে ললিতা, আর রাত ও দুপুরের জন্য রান্না করে। হঠাৎ জুবায়েরের ডাকে ললিতার কলিজার ভেতরটা মোচড়াতে শুরু করে। রান্না ছেড়ে ললিতা জুবায়েরের কাছে গেলে তাকে ভাত দেয়ার জন্য অর্ডার করে, অন্যদিন ললিতা খাবার টেবিলে রেখে গেলে জুবায়ের আরও অনেক পরে খায়।
ললিতা জুবায়েরের অর্ডার পালন করে। টেবিলে সব খাবার সাজিয়ে রেখে সে আবার রান্নাঘরে ফিরে আসে। রান্নাঘর পরিষ্কার করে রেখে সে পাশের ফ্লাটের আপার কাজ করে দিতে যাবে,সকালে যাওয়া হয়নি সেখানে। তাই ললিতা দ্রুত হাতে সবকিছু গোছাচ্ছে। ভেতর থেকে আবার জুবায়ের হাঁকডাক শুরু করে। ললিতা দৌড়ে আবার ডাইনিং টেবিলে যায়।
জুবায়ের অর্ধেক খাবার খেয়েছে। বড় মাছের পেটিতে কামড় দিতে দিতে ললিতার দিকে তাকায় জুবায়ের, এ চাহনীতে এক নোংরামি, অসভ্যতা আর বর্বরতা মিশে আছে।
—আমার প্লেটে আরেকটু তরকারি দাও তো।
তরকারি দিতে ললিতাকে জুবায়েরের কাছে আসতে হবে ভেবে ললিতার মুখ শুকিয়ে আসছিল।
—ললিতা,দুপুরে তো খাওনি!
— আমি খাইয়াই আইছি,ভাইজান।
— তা কি করে হয়? তুমি রাঁধলে আর আমি একা খাচ্ছি সেটা হয়না
— না ভাইজান আপনে খান,আমি যাওয়ার সময় ভাত নিয়াই যামু।
—সে নিয়ে যেও, আগে বসো তো। খেয়ে নাও।
— না ভাইসাব আমি খাবো না, আমার অনেক কাজ আছে, অামি যাই।
— তোমাকে বসতে বলছি কিন্তু ললিতা!
জুবায়েরের ধমকের স্বরে ললিতা ভয়ে কেঁপে উঠে।মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে সে। জুবায়ের আবার তাকে টেবিলে বসতে জোর করে। ললিতা কোনদিন ডাইনিং টেবিলে বসেনি, আজ এ লোকটার ধমকে বসতে বাধ্য হচ্ছে। প্লেটে ভাত নিয়ে ললিতা অনুনয়ের স্বরে বলে,
— ভাইসাব আমি রান্নাঘরে বইসা খাইগা। আপনে খান ভাল করে।
— না ললিতা,তুমি আমার সামনে বসে খাও।
ললিতার ভেতরটা কেঁপে উঠে,সে জুবায়েরের চোখে স্পষ্ট কামুকতা দেখতে পাচ্ছে। ললিতা যতদ্রুত সম্ভব এ বাসাটা ছাড়তে চেষ্টা করছে ততই দেরি করাচ্ছেন জুবায়ের সাহেব। তাই কথা না বাড়িয়ে গোগ্রাসে গিলে নেয় ভাতগুলো। জুবায়ের এরই মধ্যে বেসিন থেকে হাঁতধুয়ে কুলি করে ললিতার পাশের চেয়ারটায় এসে বসেছে। ললিতার ভেতরে ভয় যেন গোল্লাছুট খেলছে। আল্লাহকে ডাকছে মনে মনে অজস্রবার।
জুবায়েরের ফোনে কল এসেছে দেখে ললিতা হাফ ছেড়ে বাঁচে। প্লেটে অর্ধেক ভাত রেখে হাদ ধুয়ে দেয়, এঁটোকাটা প্লেটগুলো নিয়ে সে রান্নাঘরে চলে যায়। দ্রুত হাতে সবগুলো ধুয়ে মুছে শেষ করে জুবায়ের তখনো ফোনে কথা বলতেছে। ললিতা ভেবে নেয় এ ফাঁকেই তাকে বেরিয়ে যেতে হবে নয়ত এ ভদ্রলোকের লুলোপ চাহনির কবলে পড়তে হবে।
ললিতা কাজগুলো শেষ করে দূর থেকে জুবায়েরকে ডেকে বলে, “ভাইসাব আমি চলে যাইতাছি। ”
জুবায়ের ফোন কানে নিয়েই ললিতাকে ডেকে বলে, “একটু পরে যাও,কাজ আছে একটা।” ললিতা জুবায়েরকে অমান্য করেই না শোনার ভান করে দরজা পার হয়ে চলে আসে। বাহিরে বের হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
পাশের ফ্ল্যাটের আপা যদি কিছু বলে সকালে কাজে যায়নি বলে! বলবেনা, ওই আপা অনেক ভাল মানুষ, নিজের আপনমনেই ভাবতে থাকে ললিতা। ওই বাসার ভাইসাব ললিতারে ছোটবোনের মত দেখে। বাসায় থাকেননা উনি,সপ্তাহ শেষে বাড়ি আসেন। আপা দুই ছেলে নিয়া থাকে। ললিতা হঠাৎ করেই ভাবছে শারমিনের বাসার কাজটা ছেড়ে দিবে,কিন্তু এ কাজটা ছেড়ে দিলেও সে বিপদে পড়বে। হারিছের কষ্ট বাড়বে। কিন্তু জুবায়েরের ভাবভঙ্গি ললিতার কিছুতেই ভাল ঠেকছে না, এ বাসায় কাজ করাটা তার জন্য নিরাপদ হবে না। ভিতরে ভিতরে শিউরে ওঠে ললিতা।
রাত ১২ টা বাজে, ললিতা হারিছের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে। হারিছ কোনদিনই রাত ১০ টার পরে বাহিরে থাকেনা, আজ এত দেরি হচ্ছে কেন? ললিতার বুকটা বারবার ভয়ে কেঁপে উঠছে। পাশের ঘরের রিয়াজ চাচার কাছে গেছে হারিছের খোঁজ করতে, “চাচা, আফনেরা ছেলে রে দেখছেন আইজ? ”
— বিকালে দেখছিলাম মনতলা বাজারের মোড়ে রিক্সা লইয়া বইয়া আছিল।
— এখনো আসে নাই চাচা, চিন্তা হইতাছে।
— অত চিন্তা কইরো না,দূরে ভাড়া লইয়া গেছে মনে হয়।
নাহ্,তবুও ললিতা নিশ্চিন্ত হতে পারছেনা, বারবার ঘরের বাহিরে যাচ্ছে আর টেনশন করছে। কান পেতে শুনছে কোন রিক্সা আসার শব্দ হয় কিনা! কোন আওয়াজ নেই,দূরে কোথাও দুএকটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে,হঠাৎ দুএকটা শেয়াল হাঁক দিচ্ছে। ললিতার ভিতরটা অজানা অাশংকায় কাঁপছে।
হারিকেনের আলোটা ললিতার কাছে অসহ্য লাগছে, কান্না আসতেছে ললিতার দলা পাকিয়ে। ঘরের দরজা খুলে দোরঘোরায় বসে আছে ললিতা। জাহেরা চাচী হারিকেন হাতে টয়লেটে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে দেখে ললিতার ঘরের দরজা খোলা, চাচী ডাকে ললিতাকে,
— ললিতা নাকি রে?
— হ চাচী আম্মা।
— অত রাইতে দরজা খুইলা বইয়া রইছস কেরে? হারিছ আইছেনা অহনও?
— না চাচী অহনো আইছে না!
— অাল্লাহ্! কিতা কস তুই? রাইত ২টা বাজতাছে!
— চাচী আম্মা, আমার ডরে বুকটা কাঁপতাছে।
—ডরাইস না,আল্লাহ্ রে ডাক।

চাচীমা চলে গেলে দরজাটা লাগিয়ে বিছানাটার এককোণে বসে থাকে ললিতা। সেখানে ঘরের পালাটাতে হেলান দিয়ে সে নানান বিপদের কথা ভাবছে। ললিতা বারবার খারাপ চিন্তাকে মাথা থেকে বের করে দিতে চাইলেও বের করতে পারছেনা।
ললিতা ভাবছে হারিছের কোন এক্সিডেন্ট হয়নি তো আবার! প্রায়ই নানান দূর্ঘটনার খবর শোনে ললিতা আশেপাশে।
আবার ভাবছে হারিছ কোন বিপদে পড়েনি তো? কার কাছে খোঁজ নিবে ললিতা? এ বস্তির কয়েকটা পরিবার ছাড়া আর কাউকে চিনেনা সে। হঠাৎ জুবায়েরের কথা মাথায় আসে ললিতার! দুপুরে তো হারিছ জুবায়েরের বাসায় গেছিলো! ললিতা মনে মনে ভাবে,”উনার তো এ শহরে কত চেনা জানা, যদি উনারে দিয়া একটু খোঁজ করাইতে পারতাম!”

রাত দুইটা বাজে। ললিতা শারমিনকে কল দেয়ার আশায় ফোনটা হাতে নিয়ে আবার ভাবে, “অত রাইতে কল দেওন ঠিক হইতো না। ” ললিতা জানে জুবায়ের হারিছকে অপমান করে কথা বলে, আবারও হয়ত সে অপমানজনক দু চার কথা শুনিয়ে দেবে হারিছকে উদ্দেশ্য করে। অপমানের চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।
উৎকন্ঠায় ঘুম আসেনা ললিতার, চৌকির কোণে ঠাঁয় বসে আছে। নিস্তব্ধ এমন ঘরে ললিতা কখনো একা রাত কাটায়নি।ভাবতে ভাবতে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়ে, ফজরের আযানে তাঁর ঘুম ভাঙে কিন্তু হারিছ সারা রাতেও বাড়ি ফেরেনি। অযু করে নামাজ শেষে দোয়া করার সময় ললিতার দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ে,আল্লাহ্ র কাছে বারবার তার স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানায়। ললিতা জানে তার এ অসহায়ত্বে কেবল আল্লাহ্ই একমাত্র সহায়।

চলবে…..

-অরুন্ধতী অরু

Leave a Reply

Your email address will not be published.