মনে পড়ে মুক্তাগাছা

প্রিয় মুক্তাগাছা
তুমি ভালো আছো তো?
স্মৃতির কফিন কাঁধে নিয়ে কেমন যাচ্ছে দিনকাল?
একাদশী মেয়েটি বাড়ি নেই অনেক বছর
সেই কবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে বলে তোমাকে ছেড়েছে
তোমার সবুজ বুক থেকে মুখ তুলে
পিচঢালা পথে পিষেছে প্রথম প্রেমের মুকুল
সেই সবুজ শ্যামলিমা বুক আমার, তুমি ভালো আছো তো?

শুনতে পেলাম এখন নাকি শিউলিতলায় কেউ আসে না
এখন নাকি বিনোদবাড়ির উঠোনজুড়ে পাকা ধানের হাট বসে না
এখন নাকি গন্ধরাজে মাতাল করা গন্ধটি নেই
কামিনী ফুলে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি নেই
এখন নাকি আয়মানে কেউ চাঁদ দেখে না
কেউ নাকি আর মরা গাঙে মাছ ধরে না
প্রিয় মুক্তাগাছা, এরকম কার্তিকের খরা হৃদয়ে নিয়ে তুমি ভালো আছো তো?

মৌলভী বাড়ির খোঁজ দিতে পারো?
ও বাড়িতে একটা মস্ত জাম গাছ ছিলো
নিচে ডুমুর আর নানান জাতের পেয়ারা
ডানে বাতাবী লেবুর বেষ্টনীর ভেতরে বিশাল এক পুস্করিণী
ও বাড়ির উঠোনে একটা ডালিম গাছও ছিলো
লিচু আর কামরাঙা পাকঘরের পেছনে
আর ছিলো ছোট-বড় বাহারি স্বাদের আম
শুনলাম এখনো ঝড় এলে টুপটাপ আম পড়ে
বলতে পারো, কোনো দুঃসাহসী কিশোরী ওড়না পেচিয়ে
আম কুড়াতে নেমে যায় কিনা?
বলতো পারো, বিকেল হলে গর্তে থাকা
মাছরাঙাটির রঙিন ডানার মোহে পড়ে
সেই মেয়েটি আবোলতাবোল বকে কিনা?
বৃষ্টি এলে বেহুশ হয়ে কাদাজলে মাখামাখি
সেই মেয়েটি করে কিনা, বলতো পারো?

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে বলে যে মেয়েটি শহরে এলো
জলের মাছ ডাঙায় উঠে এলে যেমন হয়
সেও সেরকমভাবে বেঁচে আছে
আর হৃদয়ের অলিন্দে কষ্টেসৃষ্টে বাঁচিয়ে রেখেছে
ফেলে আসা একাদশীর ফিঙে পাখির মায়া
প্রিয় মুক্তাগাছা, বৃষ্টি-টিষ্টি এলে
কিংবা খুব করে জোছনা হলে
তাকে তোমার মনে পড়ে তো?

বীথি রহমান
২৮.০৪.২১

Leave a Reply

Your email address will not be published.